Tuesday, November 3, 2026

উদয়ন স্কুলে এআই দিয়ে অশ্লীল ছবি তৈরির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ


ছবিঃ ঢাবি অধিভুক্ত উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ছাত্রীদের যৌন হয়রানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরি এবং কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চাপ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁর ছেলেকে মারধর করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে এসব ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীর ক্লাসে উপস্থিতি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, প্রক্টর অফিস এবং বিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা চলছে। তাঁদের ভাষ্য, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদের ডিনের ছেলে হওয়ায় প্রতিবাদকারীদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

এদিকে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে বিদ্যালয়ে যাওয়া সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আন্দোলন চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা ফটকের বাইরে ও সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের আটকে রেখেছে। এ সময় কিছু শিক্ষার্থীকে মূল ফটক ভেঙে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের একটি গাড়ি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান করে।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।

তদন্ত কমিটি গঠনের সুনির্দিষ্ট তারিখ মনে করতে না পারলেও প্রধান শিক্ষক বলেন, ১০ বা ১১ তারিখের দিকে কমিটি গঠন করা হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে ১১ দিনের পূজার ছুটিও ছিল।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত চলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে বিশৃঙ্খলা এড়াতে লিখিত অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের আপাতত ক্লাস থেকে দূরে রাখা হয়েছে। তবে কাউকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়নি। এ কারণে কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় ঘাটতি তৈরি হলে তা পূরণের দায়িত্বও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদের ডিন। তাঁর দাবি, কলেজের সাত থেকে আটজন শিক্ষার্থী তাঁর ছেলেকে তুলে নিয়ে মারধর করেছে এবং হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আগেই বিদ্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার পর অন্য পক্ষও অভিযোগ করেছে এবং শিক্ষার্থীদের জড়ো করে আন্দোলন করছে। তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য যাচাই এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন