- ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সারা দেশের ৩০০ আসনে মোট ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এতে মোট প্রার্থীর প্রায় ২৮ শতাংশই প্রাথমিক ধাপে নির্বাচনের বাইরে চলে গেলেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাই শেষে এর মধ্যে ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল ও বৈধ প্রার্থীর এই হিসাব রোববার রাতে প্রকাশ করে ইসি।
ইসির তথ্যমতে, বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থী—৩৩৮ জন। দলভিত্তিক হিসাবে জাতীয় পার্টির (জাপা) ৫৯ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৯ জন, বিএনপির ২৫ জন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ২৫ জন, জামায়াতে ইসলামীর ১০ জন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বিএনপির ক্ষেত্রে অনেক প্রার্থীর দলীয় মনোনয়নপত্র না থাকায় তাঁদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, যাঁদের বড় অংশ বিদ্রোহী প্রার্থী বলে জানায় ইসি।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলেও তাঁর মৃত্যুর কারণে (৩০ ডিসেম্বর) ফেনী-১, বগুড়া-৭ ও দিনাজপুর-৩ আসনে ওই মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় রাখা হয়নি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে মনোনয়নপত্র বাতিলকে কেন্দ্র করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। শেষ দিনে জামায়াতের তিনজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়, যার মধ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগ উল্লেখযোগ্য। এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কোথাও কোথাও বিক্ষোভও হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের ১৬টি আসনে জমা পড়া ১৪৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৪২টি বাতিল হয়েছে। ফরিদপুর ও সিলেটের কয়েকটি আসনে স্থগিত থাকা মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও কয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিলই বহাল রাখা হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচার।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে গণভোটও আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।