- ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা
নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় ভোট দিতে বিপুল সংখ্যক ভোটার নিবন্ধন করেছেন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখের বেশি ভোটার এই বিশেষ ভোটিং ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
১৮ নভেম্বর শুরু হওয়া নিবন্ধন কার্যক্রম নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সোমবার মধ্যরাতে শেষ হয়। নিবন্ধিত ভোটারদের বড় অংশই পুরুষ হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ভোটারও এতে যুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি দেশের ভেতরে অবস্থানরত ভোটারদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো।
প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেই সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন এসেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার ও ওমানে বসবাসরত বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের জন্য ব্যাপকভাবে আবেদন করেছেন। অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে কর্মস্থল বা দায়িত্বজনিত কারণে নিজ এলাকায় ভোট দিতে অক্ষম এমন ভোটারদের জন্য ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতে বিপুল সাড়া মিলেছে।
জেলাভিত্তিক হিসেবে কুমিল্লা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সবচেয়ে বেশি নিবন্ধনের শীর্ষে রয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি সংসদীয় আসনে নিবন্ধনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা গেছে, যা ভোটারদের আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বিশ্বের বহু দেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেগুলো পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি কঠোরভাবে মানার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন। গোপনীয়তা লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ভোটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এ ছাড়া যেসব ভোটারের ঠিকানায় ত্রুটি পাওয়া গেছে, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না, কারণ ভোটারদের কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, এই অ্যাপের মাধ্যমে শুধু প্রবাসী ভোটারই নয়, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, কর্মস্থলের কারণে নিজ এলাকা থেকে দূরে থাকা সরকারি কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটারদেরও পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়। বিশ্বের বহু দেশ থেকে স্থানীয় মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করে এই নিবন্ধন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যা বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি নতুন সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।