- ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। রাঙমাটি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের নজির রয়েছে, তেমনি কিছু আসনে দেখা গেছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়। নির্বাচন-পরবর্তী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেড় লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন চারজন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে তিনজন বিএনপির এবং একজন জামায়াতে ইসলামীর।
সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন পার্বত্য রাঙামাটি আসনে বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ান। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৪ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা ফুটবল প্রতীকে পান ৩১ হাজার ২২২ ভোট। ফলে দুজনের ব্যবধান দাঁড়ায় ১ লাখ ৭০ হাজার ৩২২ ভোটে। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখের বেশি।
রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশিদ ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি মোট ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট পান। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির জামিল হিজাযী পান ৬৭ হাজার ২৯৯ ভোট। এ আসনে ভোটার সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি।
জামালপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩ ভোটের ব্যবধানে জয় পান। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ২১৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. মুজিবুর রহমান আজাদী পান ৪৪ হাজার ১৬১ ভোট। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি।
সাতক্ষীরা-2 আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আবদুল খালেক ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি পান ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৯ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. আবদুর রউফ পান ১ লাখ ১৬ হাজার ২২৯ ভোট। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি।
এ ছাড়া এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন আরও ২৬ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন বিএনপির, একজন জামায়াতের এবং একজন জামায়াত-সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির প্রার্থী।
এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত থাকে। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৯৭টি আসনের ফল ঘোষণা হয়েছে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা ২১২টি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্ররা ৭৭টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয় পেয়েছেন। দুটি আসনে আইনি জটিলতার কারণে ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে।