- ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে যে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোট প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম ও কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ৩০টি নির্বাচনী আসনে ভোটের ফলাফল স্থগিত করা এবং পুনর্গণনার দাবি জানানো হয়েছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন প্রত্যাশা করেছিল। তবে নির্বাচনের দিন থেকে তারা লক্ষ্য করেছেন যে, অনেক আসনে ভোটারদের জন্য বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ভোট কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, “আমরা প্রায় ৩০টি আসনে ভোট প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়মের নজির পেয়েছি। রেজাল্ট শীটে ওভাররাইটিং, ঘষামাজা এবং কাগজপত্রে জালিয়াতি হয়েছে। নির্বাচনের দিনই আমরা এসব বিষয় রিটার্নিং অফিসার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়েছি। কিছু আসনে ফলাফল ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করা হয়েছে; উদাহরণস্বরূপ, ঢাকার কয়েকটি আসনের ফলাফল আমরা ভোর ৫টায় পেয়েছি।”
এছাড়া তিনি বলেন, যেসব আসনে অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে, সেখানে স্থানীয় রিটার্নিং অফিসার এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছে। ভোট পুনর্গণনার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার বিষয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উল্লেখ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাদের কর্মী, সমর্থক, এজেন্ট এবং এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মহিলাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই শতাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে আহতদের মৃত্যু ঘটেছে। তিনি জানান, এসব তথ্য নিয়মিতভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হচ্ছে।
একই সময়, ঢাকা-৬ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ মান্নান অভিযোগ করেছেন যে, তার আসনে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল অন্য প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে, যা ভোটপ্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন বাংলাদেশের জন্য সহিংসতা মুক্ত, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে এবং ভোটের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।