- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আগ্রহ বাড়ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসতে পারেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ২০০৮ সালের পর এবারই সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ইসি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই), কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবারের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ছাড়া পৃথকভাবে কয়েকটি দেশ থেকেও প্রতিনিধি দল আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২৭ দেশের এই জোট থেকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি মিলিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসতে পারেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রাথমিক যোগাযোগ ও পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকেও একটি উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষক দল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেবে, যার নেতৃত্বে থাকবে আইআরআই। এ ছাড়া কমনওয়েলথের পক্ষ থেকে প্রায় ৩০ জন পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় কমিশনের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতি বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি কাজা কালাসকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগেই বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। তবে সরকার এমন কাউকে আমন্ত্রণ জানাতে চায় না, যাদের উপস্থিতি নির্বাচন ঘিরে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও জানান, গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রাক্-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশ সফর করেছে। সে সময় তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত প্রতিনিধি দলে আইআরআই ও এনডিআই ছাড়াও সাবেক সিনেটর, কংগ্রেস সদস্য এবং সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা থাকতে পারেন।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিনই, ১১ ডিসেম্বর, ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কালাসকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। চিঠিতে তিনি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কমিশনের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
চিঠিতে বলা হয়, দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ভোটারদের আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। ভোটের প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণ, গণনা এবং ভোট-পরবর্তী সব ধাপ পর্যবেক্ষণের জন্য ইইউ প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানানো হয়।
ব্রাসেলসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মাসুদ আলম জানান, গত সেপ্টেম্বরে ইইউর প্রাক্-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের দেওয়া মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এবার পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও সম্প্রতি জানিয়েছেন, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ইইউ বাংলাদেশে বড় পরিসরে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে। সম্ভাব্য এই দলে ১৫০ থেকে ২০০ জন সদস্য থাকতে পারেন, যাদের একটি অংশ ভোটের ছয় সপ্তাহ আগে এবং বাকিরা ভোটের ঠিক আগের সপ্তাহে বাংলাদেশে পৌঁছাবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৬০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক উপস্থিতির মধ্য দিয়ে একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।