- ০৩ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। সিলেট
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, জনমতের তোয়াক্কা না করে এবং যথাযথ আলোচনা ছাড়াই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
মঙ্গলবার সিলেট সদর উপজেলার এক শিশুহত্যার ঘটনায় নিহত চার বছরের শিশুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংসদীয় বা নীতিনির্ধারণী আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণ করা উচিত ছিল। কিন্তু সে পথে না গিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবতার সঙ্গে তার বড় ধরনের ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। তবে দেশের মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো তাদের অবস্থান থেকে কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় সিলেটে আলোচিত শিশুহত্যা মামলার প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ঘটনার প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তিনি দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবি জানান। একই সঙ্গে আলোচিত বিভিন্ন শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় সমান গুরুত্ব দিয়ে বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে পরিবারটির পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা রোধ করতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের অপরাধ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করা উচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে সিলেটের ওই শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর দুই দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।