- ০৩ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের প্রশ্নে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক দশকেরও বেশি আগে অবস্থান নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে কোটা সংস্কার নিয়ে বড় ধরনের আন্দোলন শুরু হওয়ার কয়েক বছর আগেই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিয়েছিলেন বিএনপির শীর্ষ নেতা।
সম্প্রতি লন্ডনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সালেহ শিবলী বলেন, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সে সময় তিনি কোটার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছিলেন বলে জানান প্রেস সচিব।
সালেহ শিবলীর দাবি, ওই অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেছিলেন, সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে সীমিত পরিসরে আনা উচিত, যাতে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা আরও বেশি সুযোগ পান। এ বক্তব্যের একটি ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রেস সচিবের মতে, পরবর্তী সময়ে দেশে কোটা সংস্কার ইস্যুতে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তার সঙ্গে তারেক রহমানের আগের অবস্থানের একটি নীতিগত মিল রয়েছে। তিনি বলেন, চাকরিতে মেধার মূল্যায়ন এবং সুযোগের ভারসাম্য নিশ্চিত করার প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল।
২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে যে আন্দোলন শুরু হয়, তা পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছিল বলেও মন্তব্য করেন সালেহ শিবলী।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বেকারত্ব কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্য খাতে জনবল নিয়োগ, বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর প্রচেষ্টা এবং বিদেশমুখী দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এসব উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোটা সংস্কার প্রশ্নে অতীতের অবস্থান এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় আসায় এ নিয়ে জনমনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে বিষয়টির মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, নীতিগত অবস্থান এবং বাস্তবায়িত পদক্ষেপের ওপর।