- ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কয়েকটি ম্যাচ ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আবেদন করেছে বাংলাদেশ। এ ইস্যুতে দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর অবশেষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। তবে তারা জানিয়েছে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভারতের মুম্বাইয়ে বিসিসিআইয়ের এক বৈঠক শেষে বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত আইসিসির অধীন। বিসিসিআই কেবল আয়োজক দেশের ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, বৈঠকটি মূলত আসন্ন ইভেন্টগুলোর সমন্বয় ও অন্যান্য ক্রিকেট বিষয় নিয়ে ছিল।
এই পরিস্থিতির সূত্রপাত ঘটে বাংলাদেশ দলের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী কিছু গোষ্ঠীর চাপের মুখে তাকে আইপিএলের একটি দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনা আসে বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়। এর পরপরই বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে আইসিসির কাছে ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করে।
আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে এ বিষয়ে ইমেইলের মাধ্যমে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এদিকে সময়ও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, কারণ টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কার মোট আটটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সূচি রয়েছে। বাংলাদেশ গ্রুপ ‘সি’-তে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালির সঙ্গে রয়েছে। সূচি অনুযায়ী, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ইংল্যান্ড ও ইতালির বিপক্ষে ম্যাচগুলো কলকাতার ইডেন গার্ডেনে এবং নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নির্ধারিত রয়েছে।
এ বিষয়ে বিসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইসিসি সভাপতি জয় শাহের নেতৃত্বে সংস্থাটি বাংলাদেশের উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিরবচ্ছিন্ন অংশগ্রহণ বজায় রাখতে আইসিসি বিসিবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে আইসিসি।