- ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের ক্রীড়া সংগঠনগুলোর কার্যক্রম ও বাস্তব চিত্র জানতে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর এবার তিনি বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় ৫২টি ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বিপুল সংখ্যক সংগঠনের তালিকা ও কার্যক্রম শুনে প্রতিমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করেন। অনেক ফেডারেশনের নাম সাধারণ মানুষের কাছেও অপরিচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই ধরনের বা কাছাকাছি ধারার একাধিক সংগঠন থাকায় সেগুলোকে সমন্বয় করে একটি ছাতার নিচে আনার পরিকল্পনার কথা জানান।
সভায় প্রতিটি ফেডারেশনকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আর্থিক কাঠামোর বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। কোন সংস্থা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এগোতে চায়—তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার ইঙ্গিত দেন প্রতিমন্ত্রী।
আলোচনায় উঠে আসে অর্থসংকটের বিষয়টি। ফুটবল, ক্রিকেট বা শুটিংয়ের বাইরে অধিকাংশ ফেডারেশনই পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে বলে জানায়। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহযোগিতা নিয়ে ক্রীড়ায় করপোরেট অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) তহবিল থেকে খেলাধুলায় সহায়তা আনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ক্রীড়া সামগ্রী আমদানিতে কর অব্যাহতির বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন আমিনুল হক। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সহজলভ্য করা জরুরি। এ ছাড়া জাতীয় পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রতিভা বিকাশে নতুন কর্মসূচি চালুর ইঙ্গিত দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদের পর ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেধাবী খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি বিশেষ প্রকল্প শুরু করা হতে পারে।
সভা শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, প্রতিমন্ত্রী সবার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সমস্যা-সম্ভাবনা নোট করেছেন। তিনি আরও প্রস্তাব দেন, ভবিষ্যতে ছোট পরিসরে কয়েকটি ফেডারেশন নিয়ে আলাদা বৈঠক করলে বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হবে।
বিওএর মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা সরকারি বরাদ্দের বাস্তব প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভ্যাট-ট্যাক্স কর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।
সামগ্রিকভাবে বৈঠকে ক্রীড়া প্রশাসনে কাঠামোগত সংস্কার, আর্থিক স্বচ্ছতা ও সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর এই উদ্যোগ ক্রীড়াঙ্গনে নতুন গতি আনবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।