- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপার পদে নিয়োগের জন্য আবেদন প্রক্রিয়ায় টেলিটকের সার্ভার সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সমাধান করতে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি শিগগিরই বৈঠক করবে।
এনটিআরসিএর (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) এক সূত্র জানিয়েছে, সার্ভার সমস্যার কারণে আবেদন প্রক্রিয়ায় বাগ তৈরি হয়েছে। তাই আবেদন সময়সীমা বাড়ানো হবে কিনা, তা নিয়ে কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। সভার নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে চলতি সপ্তাহে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে এনটিআরসিএর পরিচালক (পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও প্রত্যয়ন) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ বলেন, “সার্ভার জটিলতা ও অন্যান্য বিষয় দ্রুত সমাধানের জন্য কমিটি সভা করে সিদ্ধান্ত নেবে। সভার সময় এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”
সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫০ টাকা। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদের শূন্যপদও নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ১৩ হাজার ৫৫৯টি শূন্যপদে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী শূন্যপদের সংখ্যা সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।
বিস্তারিতভাবে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদের সংখ্যা ১০ হাজার ২৭৮টি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে ১৯০টি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ৩ হাজার ১৩১টি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে স্নাতক পাস কলেজে অধ্যক্ষ পদে ৫৮৪টি ও উপাধ্যক্ষ পদে ৬২৭টি, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ ৫১১টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ ২৫৭টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে ৩ হাজার ৯২৩টি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ৩ হাজার ৮৭২টি শূন্যপদ রয়েছে। নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে শূন্যপদ ৫০৪টি।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যক্ষ পদে ১১০টি, ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানে সুপারিনটেনডেন্ট ৪০টি ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ৪০টি।
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় কামিল পর্যায়ে অধ্যক্ষ ৩৪টি ও উপাধ্যক্ষ ৫৩টি, ফাজিল পর্যায়ে অধ্যক্ষ ২০২টি ও উপাধ্যক্ষ ৩৪৩টি, আলিম পর্যায়ে অধ্যক্ষ ২১৯টি ও উপাধ্যক্ষ ৩৭৭টি। দাখিল পর্যায়ে সুপারিনটেনডেন্ট ৮৯৯টি ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ১ হাজার ৪টি। সব মিলিয়ে মাদরাসায় শূন্যপদ ৩ হাজার ১৩১টি।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই জটিলতা শিক্ষার্থী ও প্রার্থীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। এবারের কমিটির সভার সিদ্ধান্তের পর আবেদন প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে পুনরায় শুরু হবে।