- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
সত্য ঘটনা অবলম্বনে নাটকীয় সিরিজ নির্মাণে দক্ষ নির্মাতা রায়ান মারফি আবারও হাজির হয়েছেন আলোচিত এক প্রেমকাহিনি নিয়ে। তাঁর প্রযোজনায় এফএক্স চ্যানেলে শুরু হয়েছে নতুন সিরিজ লাভ স্টোরি: জন এফ কেনেডি জুনিয়র অ্যান্ড ক্যারোলিন বেসেট, যেখানে তুলে ধরা হয়েছে জন এফ কেনেডি জুনিয়র ও ক্যারোলিন বেসেট-কেনেডি–এর সম্পর্ক, বিবাহ ও মর্মান্তিক পরিণতির গল্প।
সিরিজের সূচনা ১৯৯৯ সালের সেই বিমান দুর্ঘটনা দিয়ে, যা এই দম্পতির জীবনের শেষ অধ্যায় হয়ে ওঠে। এরপর কাহিনি ফিরে যায় ১৯৯২ সালে—যখন তাদের প্রথম পরিচয়। সে সময় ক্যারোলিন কাজ করতেন ফ্যাশন ব্র্যান্ড ক্যালভিন ক্লেইন–এ। তাঁর স্বাভাবিক আভিজাত্য ও ব্যক্তিত্ব দ্রুতই তাঁকে নিউইয়র্কের উচ্চবিত্ত সমাজে পরিচিত মুখ করে তোলে।
অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি –এর পুত্র জন জুনিয়র তখন পেশাগতভাবে কিছুটা অনিশ্চয়তার সময় পার করছিলেন। সহকারী জেলা অ্যাটর্নি হিসেবে তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল, পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমেও তাঁকে প্রায়ই আলোচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা হতো।
১৯৯২ সালে এক সামাজিক অনুষ্ঠানে তাঁদের প্রথম দেখা হলেও সম্পর্ক গড়ে ওঠে কিছুটা পরে। এর আগে অভিনেত্রী ড্যারিল হানাহ–র সঙ্গে জনের সম্পর্ক ছিল। ১৯৯৪ সালে জন ও ক্যারোলিনের প্রেম শুরু হয় এবং দ্রুতই তা জনমনে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে ম্যাসাচুসেটসের মার্থাস ভিনইয়ার্ডে জন ক্যারোলিনকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কয়েক সপ্তাহ ভেবে দেখার পর ক্যারোলিন সম্মতি জানান। তবে তাঁদের সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল না। ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে হাঁটার সময় এক তর্কের দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তা জাতীয় আলোচনায় পরিণত হয়।
তবু একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর, জর্জিয়ার কাম্বারল্যান্ড দ্বীপের ফার্স্ট আফ্রিকান ব্যাপ্টিস্ট চার্চে গোপনে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। অতিথিদের জন্য ছিল কঠোর গোপনীয়তার ব্যবস্থা। আধুনিক সময়ের অন্যতম আলোচিত তারকা বিয়ে হিসেবে এটি বিবেচিত হয়।
বিয়ের পর ক্যারোলিন চেয়েছিলেন অপেক্ষাকৃত ব্যক্তিগত জীবন। কিন্তু পাপারাজ্জিদের অবিরাম নজরদারি তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে কঠিন করে তোলে। গণমাধ্যমের চাপ, জনসম্মুখে উপস্থিতি এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের ভার—সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্ক ছিল ভালোবাসা ও টানাপোড়েনের মিশেল।
১৯৯৯ সালের ১৬ জুলাই, মার্থাস ভিনইয়ার্ডে পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে জন নিজেই একটি ছোট বিমান চালাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ক্যারোলিন ও তাঁর বোন লরেন বেসেট। উড্ডয়নের কিছু সময় পর বিমানটি আটলান্টিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়। এতে তিনজনই নিহত হন। পরে সমুদ্রে তাঁদের অস্থি বিসর্জন দেওয়া হয় এবং নিউইয়র্কে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
জন এফ কেনেডি জুনিয়র ও ক্যারোলিন বেসেটের গল্প কেবল একটি প্রেমকাহিনি নয়; এটি খ্যাতি, ক্ষমতা, গণমাধ্যমের চাপ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সংগ্রামের গল্প। নতুন সিরিজটি সেই সম্পর্ককে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করে বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরছে।