- ০৭ নভেম্বর, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে দুই অভিনেত্রীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ঘটনায় কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ দুজনেরই সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে সংগঠনটি। বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুই পক্ষের অসহযোগিতার কারণে শেষ পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু।
গত ৪ অক্টোবর দুই অভিনেত্রীর কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এর আগে গত ৭ জুলাই তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউই সংগঠনের কার্যালয়ে লিখিত জবাব জমা দেননি। পরে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত এবং কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় তাঁদের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
সদস্যপদ স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিজের অবস্থান তুলে ধরতে ফেসবুক লাইভে আসেন তানজিন তিশা। প্রায় ২৫ মিনিটের লাইভে তিনি শুটিং সেটের বিরোধ, সংগঠনের সালিশ বৈঠক এবং গত কয়েক মাসে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
লাইভে তিশার অভিযোগ, পেশাগত কাজের জায়গায় মতবিরোধ বা ভুল-বোঝাবুঝি হতেই পারে। কিন্তু সেসব বিষয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে কাউকে বিব্রত করা কিংবা তাঁর পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা উচিত নয়। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রচারণা শিল্পীদের কাজের পরিবেশ নষ্ট করে।
গত এক বছরে নিজের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিশা বলেন, সময়ের সঙ্গে সব ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। তিনি সেসব বিষয় প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান।
গত ৩ মার্চ মানিকগঞ্জে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিং চলাকালে সামিয়া অথৈর সঙ্গে তানজিন তিশার বিরোধের সূত্রপাত হয়। সামিয়া অভিযোগ করেছিলেন, নাটকের একটি দৃশ্যে তাঁকে হালকা চড় দেওয়ার কথা থাকলেও তিশা একাধিকবার জোরে আঘাত করেন। এতে তিনি আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন।
তবে শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিশা। তাঁর বক্তব্য, নাটকের চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনে দৃশ্যটি ধারণ করা হয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবে সামিয়া অথৈকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।
ফেসবুক লাইভে তিশা দাবি করেন, শুটিং সেটে কী ঘটেছিল, তা সেখানে উপস্থিত শিল্পী ও কলাকুশলীরা প্রত্যক্ষ করেছেন। নাটকের দৃশ্য দেখলেও বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধের পর অভিনয়শিল্পী সংঘের উদ্যোগে দুই অভিনেত্রীকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সালিশ বৈঠকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। সেখানে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা বিচারকের ভূমিকা পালন করেন।
তিশা জানান, বৈঠকে দুজনকে ক্ষমা চেয়ে লিখিত বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে সামিয়া অথৈ ভিডিও বার্তা দেননি এবং তিনিও ব্যক্তিগত কারণে তা দিতে পারেননি। সংগঠনের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণেই তাঁর সদস্যপদ স্থগিতের চিঠি এসেছে বলে মন্তব্য করেন অভিনেত্রী।
ফেসবুক লাইভের শেষ দিকে গত কয়েক মাসের প্রতিকূল পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তানজিন তিশা। বিভিন্ন বিতর্ক ও চাপের মধ্যেও অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কোনো বাধাই তাঁকে থামাতে পারবে না। নিজের অবস্থানের প্রতি আস্থা রয়েছে বলেও জানান এই অভিনেত্রী।
অন্যদিকে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানিয়েছেন, দুই শিল্পীর মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে ফেলার জন্য সংগঠনটি একাধিকবার চেষ্টা করেছে। তাঁদের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। এমনকি বিরোধের অবসান হয়েছে জানিয়ে যৌথ ভিডিও বার্তা প্রকাশের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেউই সংগঠনের প্রস্তাবে সম্মতি না দেওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে তানজিন তিশা প্রকাশ্যে নিজের বক্তব্য জানালেও সামিয়া অথৈর পক্ষ থেকে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দুই অভিনেত্রীর বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং ভবিষ্যতে তাঁদের সদস্যপদ পুনর্বহালের বিষয়ে অভিনয়শিল্পী সংঘের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।