- ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
সুদানের কর্দোফান অঞ্চলে সংঘাত তীব্র হওয়ায় গত বছরের শেষ দিক থেকে এখন পর্যন্ত দুই লাখের বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সঙ্গে অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় শহর এল ওবেইদে পানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলা পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলেছে। এর সঙ্গে উত্তর দারফুরে মৌসুমি বন্যা যোগ হওয়ায় মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
বুধবার আইওএমের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়, সুদানের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাতের কারণে পরিবারগুলো ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। একই সময়ে পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সুবিধাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, পরিস্থিতির বিপদের সংকেতগুলো এখন আর উপেক্ষা করার মতো নয়। সংঘাতের পাশাপাশি অবকাঠামো ধ্বংস ও বন্যা হাজারো পরিবারকে তাদের সহনক্ষমতার সীমার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, এল ওবেইদসহ শেইকান জেলায় গত আট মাসে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। শহরটির প্রধান বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমারে বারবার হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে পানি পাম্প করা, হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা এবং মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ব্লু নাইল রাজ্যে আরও প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ এবং পশ্চিম দারফুরে আগস্টের প্রথমার্ধে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছে আইওএম।
উত্তর দারফুরের তাওয়িলা এলাকাতেও ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সেখানে প্রায় এক হাজার ৩৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক হাজারের বেশি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে ভয়াবহ সংঘাত চলছে। জাতিসংঘের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে আনুমানিক ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৮৬ লাখ মানুষ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন আরও ৪২ লাখের বেশি মানুষ। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
সুদানের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এল ওবেইদ শহরটিও দীর্ঘদিন ধরে অবরোধ ও হামলার মধ্যে রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে আরএসএফের অবস্থান রয়েছে এবং আশপাশের গ্রামগুলোতে হামলা অব্যাহত রয়েছে। ড্রোন হামলায় সেনাবাহিনীর যানবাহন, তেলবাহী ট্যাংকার ও পণ্যবাহী ট্রাকও লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।
যুদ্ধের আগে এল ওবেইদের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লাখ। বর্তমানে বিভিন্ন স্থান থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয় নেওয়ার কারণে শহরটির জনসংখ্যা বেড়ে আনুমানিক ৩৪ লাখে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সুদান ট্রিবিউন।
শিশুদের ওপরও পড়ছে যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব। মানবিক সহায়তা সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রায় ৩৯ হাজার শিশু এল ওবেইদে এসে পৌঁছেছে।
সংঘাত, অবকাঠামো ধ্বংস, বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ সব মিলিয়ে সুদানের সংকট এখন আরও জটিল রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের আশঙ্কা, দ্রুত সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষের মানবিক পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।