- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় শান্তিরক্ষীর মরদেহ শনিবার দেশে পৌঁছেছে। তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজটি সকাল ১১টা ৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় সহকর্মী, স্বজন ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
আইএসপিআরের তথ্যমতে, গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর চালানো ভয়াবহ ড্রোন হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন এবং আরও নয়জন আহত হন।
নিহত শান্তিরক্ষীরা হলেন নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মণ্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।
হামলায় আহত নয়জন শান্তিরক্ষী বর্তমানে কেনিয়ার নাইরোবির আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন এবং বাকিদের অবস্থাও শঙ্কামুক্ত। আহতদের মধ্যে তিনজন নারী সেনাসদস্য রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে আছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, করপোরাল আফরোজা পারভিন, ল্যান্স করপোরাল মহিবুল ইসলাম, সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, সৈনিক মোসা. উম্মে হানি আক্তার, সৈনিক চুমকি আক্তার ও সৈনিক মো. মানাজির আহসান।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। ১৯৮৮ সাল থেকে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করছে। শুরু থেকে এ পর্যন্ত শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ১৬৮ জন সদস্য আত্মত্যাগ করেছেন।
সুদানে এ হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দা জানানো হয়েছে। দেশবাসীও নিহত শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।