- ০৫ মার্চ, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। বরগুনা
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় বন্যপ্রাণী শিকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ও দণ্ডিত হওয়ার পর এক ব্যক্তিকে তালাক দিয়েছেন তার স্ত্রী। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে শাহীনুর বেগম (৪০) স্বামী মো. হানিফ (৪৫)-এর বিরুদ্ধে তালাকের নোটিশ পাঠান। এর আগে সোমবার রাতে বন বিভাগের অভিযানে দুটি জবাই করা হরিণ ও কয়েকটি বিশেষ ফাঁদসহ হানিফকে আটক করা হয়।
বন বিভাগ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার গভীর রাতে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা খাল এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে তল্লাশি করে দুটি জবাই করা হরিণ এবং নয়টি ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই হানিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হাঁড়িটানা গ্রামের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করছিলেন।
মঙ্গলবার সকালে তাকে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। জব্দ করা হরিণের চামড়া ও শিং সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং মাংস নষ্ট করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলে বন বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
দণ্ডাদেশের পর স্বামীর কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান শাহীনুর বেগম। তিনি বলেন, তার স্বামী আগে সাগরে মাছ ধরার কাজ করতেন। কিন্তু সম্প্রতি অবৈধভাবে হরিণ শিকারে জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতার কথা বিবেচনা করেই তিনি তালাকের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
এদিকে শাহীনুরের ছোট ভাই জহিরুল ইসলাম, যিনি স্থানীয় বন বিভাগের বিট কার্যালয়ে কর্মরত, বলেন—এই ঘটনার কারণে তিনি ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে বিব্রত অবস্থায় পড়েছিলেন। পরিবারের কেউ বন্যপ্রাণী নিধনের সঙ্গে জড়িত থাকায় কর্মস্থলেও তাকে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ শিকার বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।