Monday, January 19, 2026

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ওসমান হাদির জানাজায় মানুষের ঢল


ছবিঃ ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিপুল মানুষ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির জানাজায় অংশ নিতে শনিবার সকাল থেকেই জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মানুষের ঢল নামে। জানাজা দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই দলে দলে মানুষ বিভিন্ন দিক থেকে সেখানে জড়ো হতে থাকেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফার্মগেট, আসাদগেটসহ আশপাশের এলাকা দিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে ও মাথায় বেঁধে মানুষ জানাজার মাঠে প্রবেশ করছেন। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে জড়ো হওয়া জনতা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আমরা সবাই হাদি হব’ এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

লালবাগ থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আসা আহসান উল্লাহ বলেন, শহীদ হাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তারা সকাল সকাল চলে এসেছেন। তাঁর ভাষায়, “আজ মানুষের ঢল নামবে জেনেই আগেভাগে এসেছি।”

জানাজাকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রবেশপথগুলোতে একাধিক স্তরে তল্লাশি চালানো হয়। মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও সেনাবাহিনীর সদস্য। ডিএমপি জানিয়েছে, জানাজা উপলক্ষে এক হাজারের বেশি বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সীমিত রাখা হয়।

এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় জানানো হয়, জানাজায় জাতীয় পতাকা ছাড়া অন্য কোনো পতাকা বহন না করার অনুরোধ জানিয়েছে হাদির পরিবার।

জোহরের নামাজের পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন শহীদ হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।

পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজা শেষে শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ দেশে আনা হয়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন