Saturday, May 23, 2026

স্টারশিপের নতুন সংস্করণের প্রথম উড্ডয়ন, আংশিক সফলতায় আশাবাদী স্পেসএক্স


ছবিঃ রকেট (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট হিসেবে পরিচিত স্টারশিপের নতুন সংস্করণের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে SpaceX। তবে পুরো মিশন পরিকল্পনামাফিক না হলেও এটিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের স্টারবেস উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে ৪০৭ ফুট দীর্ঘ স্টারশিপ রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের কয়েক মিনিট পরই সুপার হেভি বুস্টার থেকে মূল মহাকাশযান সফলভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে মহাকাশের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে।

তবে বুস্টারটি পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় জটিলতা দেখা দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি মেক্সিকো উপসাগরে নিয়ন্ত্রিত অবতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন পুনরায় সচল না হওয়ায় বুস্টারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে পড়ে বিস্ফোরিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে স্টারশিপ মহাকাশে ওঠার সময় ছয়টি র‌্যাপ্টর ইঞ্জিনের একটি বিকল হয়ে যায়। এরপরও এটি নির্ধারিত মিশনের বেশিরভাগ অংশ সফলভাবে সম্পন্ন করে। পরীক্ষামূলকভাবে বহন করা ২০টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট সিমুলেটর এবং দুটি পরিবর্তিত স্টারলিংক স্যাটেলাইট সফলভাবে মোতায়েন করা হয়। এসব স্যাটেলাইট স্টারশিপের বাইরের অংশের ভিডিও ধারণের কাজেও ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎক্ষেপণের প্রায় এক ঘণ্টা পর ভারত মহাসাগরে একটি কৃত্রিম অবতরণের অনুশীলন সম্পন্ন করে স্টারশিপ। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী সেটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।

স্পেসএক্স জানিয়েছে, এটি ছিল স্টারশিপের তৃতীয় সংস্করণ বা ‘স্টারশিপ ভি-৩’-এর প্রথম বড় পরীক্ষা। নতুন এই সংস্করণে ব্যবহৃত হয়েছে তৃতীয় প্রজন্মের র‌্যাপ্টর ইঞ্জিন, যা আগের তুলনায় বেশি শক্তিশালী এবং নকশাগতভাবে সহজতর। নতুন বুস্টারকে দ্রুত উৎক্ষেপণ ও সহজ পুনরুদ্ধারের উপযোগী করেও তৈরি করা হয়েছে।

এই উৎক্ষেপণ স্পেসএক্সের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হলো। কারণ চলতি সপ্তাহেই কোম্পানিটির আইপিও সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী জুনে নাসডাকে তালিকাভুক্ত হতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। আইপিওর মাধ্যমে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই স্টারশিপকে ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের মূল বাহন হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন। চাঁদ ও মঙ্গলগ্রহে ভবিষ্যৎ অভিযানে এই মহাকাশযান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পৃথিবীর কক্ষপথে আরও উন্নত স্টারলিংক স্যাটেলাইট পাঠাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে স্পেসএক্স।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর এটিই ছিল স্টারশিপের প্রথম উড্ডয়ন। এর আগে একটি উন্নত বুস্টার পরীক্ষার সময় বিস্ফোরণের ঘটনায় উৎক্ষেপণ পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ উৎক্ষেপণ চেষ্টাও একবার স্থগিত করতে হয়েছিল প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন