- ২২ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বিশ্বের অন্যতম আলোচিত মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান SpaceX শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতি নেওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে কোম্পানিটির মালিকানা কাঠামো ও বিনিয়োগকারীদের প্রভাব। প্রতিষ্ঠানটির দাখিল করা এস-ওয়ান নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক এখনো কোম্পানিটির ওপর প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাস্কের হাতে রয়েছে প্রায় ছয়শ বিয়াল্লিশ কোটি শেয়ার। এর মধ্যে ক্লাস ‘বি’ শেয়ারের প্রতিটির বিপরীতে রয়েছে দশটি করে ভোটাধিকার। ফলে কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার প্রভাব প্রায় একচ্ছত্র অবস্থানে রয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো—মঙ্গল গ্রহে স্পেসএক্সের পরিকল্পিত উপনিবেশে যদি দশ লাখ মানুষের বসবাস নিশ্চিত হয়, তাহলে মাস্ক অতিরিক্ত একশ কোটি শেয়ার পাওয়ার অধিকার অর্জন করবেন। যদিও বিশ্লেষকদের অনেকে বিষয়টিকে ভবিষ্যতনির্ভর ও প্রতীকী শর্ত হিসেবে দেখছেন, তবুও এটি কোম্পানির ওপর মাস্কের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্পেসএক্সের সম্ভাব্য শেয়ার ছাড়ের মাধ্যমে প্রায় পঁচাত্তর বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা হতে পারে। এতে কোম্পানিটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় এক দশমিক সাত ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে কোম্পানির মাত্র এক শতাংশ মালিকানার মূল্যও হতে পারে প্রায় সতেরো বিলিয়ন ডলার।
মাস্কের পর বড় অংশীদারদের মধ্যে রয়েছেন বিনিয়োগকারী ও বোর্ড সদস্য Antonio Gracias। তার কাছে রয়েছে প্রায় পঞ্চাশ কোটি চৌত্রিশ লাখ শেয়ার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাস্কের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং মাস্কের একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
আরেক গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগকারী Luke Nosek–এর মালিকানায় রয়েছে প্রায় তিন কোটি ত্রিশ লাখ শেয়ার। তিনি ‘পেপ্যাল মাফিয়া’ নামে পরিচিত উদ্যোক্তা গোষ্ঠীর সদস্য এবং স্পেসএক্সের শুরুর দিকের বিনিয়োগকারীদের একজন।
প্রতিষ্ঠানটির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা Gwynne Shotwell–এর কাছেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার রয়েছে। তিনি দুই হাজার দুই সাল থেকে স্পেসএক্সে কর্মরত আছেন এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী হিসেবে বিবেচিত।
এ ছাড়া প্রধান অর্থ কর্মকর্তা Bret Johnsen এবং বোর্ড সদস্য Ira Ehrenpreis ও Randy Glein–ও কোম্পানির উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারীদের মধ্যে রয়েছেন।
জানা গেছে, এখন পর্যন্ত স্পেসএক্স প্রায় ত্রিশ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। বিভিন্ন ধাপে বিনিয়োগকারীরা ভিন্ন ভিন্ন দামে শেয়ার কিনেছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি শেয়ারের মূল্য ছিল মাত্র এক ডলার, যা পরবর্তী ধাপে বেড়ে দুইশ সত্তর ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশ সফল হলে তা শুধু মহাকাশ প্রযুক্তি খাতেই নয়, বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।