Tuesday, October 27, 2026

ইতিহাসের অন্যতম বড় বাজেট ঘোষণা আসছে ১১ জুন


প্রতীকী ছবিঃ ঘাটতি, ঋণ আর করের চাপে নতুন বাজেট (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বড় আকারের বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সম্ভাব্য বাজেটের আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। তবে এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে অর্থের জোগান, রাজস্ব ঘাটতি, ঋণের বাড়তি চাপ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বাজেট বাড়ছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আগামী বাজেটে তরুণ উদ্যোক্তা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য বাজেটে সরকারের আয় ধরা হচ্ছে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই ঘাটতি পূরণে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে সরকারকে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার হতে পারে ৩ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উন্নয়ন বাজেট। তবে অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা সরকারের রয়েছে কি না।

সম্প্রতি এক আলোচনায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ সময়ের অর্থনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের প্রতিফলন থাকবে নতুন বাজেটে। তাঁর মতে, বড় বাজেট প্রয়োজন হলেও অর্থসংকট বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং কৃষি ও পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচির জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ–এর সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, শুধু বড় বাজেট ঘোষণা করলেই হবে না; বরং ব্যয়ের দক্ষতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি এবং রাজস্ব আহরণের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ জরুরি। তিনি মনে করেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অপচয় ও দুর্নীতি কমানো প্রয়োজন।

এদিকে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে সরকারকে ৩৫০ কোটির বেশি ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এই ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছর শেষে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় এখন নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাশিয়া, চীন ও ভারতের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের চাপ বাড়ছে।

অন্যদিকে রাজস্ব বাড়াতে আগামী বাজেটে কর কাঠামোয় কিছু পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বাড়ানোর আলোচনা থাকলেও নিত্যপণ্যে উৎসে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজসহ দৈনন্দিন পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।

বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৮ শতাংশের বেশি। সরকার আগামী অর্থবছরে তা কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করলেও বাজার পরিস্থিতি এখনো সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় বাজেট দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সহায়ক হতে পারে। তবে কার্যকর বাস্তবায়ন, সুশাসন এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে এই বড় বাজেটই সরকারের জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন