Wednesday, February 4, 2026

সরকারি–বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন গ্রেডিং চালুর প্রস্তাব


প্রতীকী ছবিঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে একক মানদণ্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারি ও বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি কার্যকর করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রণীত খসড়া শিক্ষা আইনে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত খসড়া আইনের নবম অধ্যায়ের ৩১ নম্বর ধারায় ‘পরীক্ষা ও মূল্যায়ন’ অংশে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ফলাফল মূল্যায়ন একটি অভিন্ন গ্রেডিং কাঠামোর আওতায় সম্পন্ন হবে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের নম্বর ও গ্রেড নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

এর আগেও এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) একক গ্রেডিং ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করলেও বাস্তব ও নীতিগত জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এবার শিক্ষা আইনের খসড়ায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করায় নীতিগত ভিত্তিতে উদ্যোগটি বাস্তব রূপ পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউজিসি প্রস্তাবিত গ্রেডিং কাঠামো অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর পেলে শিক্ষার্থীকে ‘এ প্লাস’ বা সিজিপিএ ৪ দেওয়া হবে। ৭৫ থেকে ৭৯ নম্বরের জন্য ‘এ’, ৭০ থেকে ৭৪ নম্বরের জন্য ‘এ মাইনাস’ নির্ধারিত রয়েছে। ধাপে ধাপে নম্বর কমার সঙ্গে সঙ্গে বি প্লাস, বি, বি মাইনাস, সি প্লাস, সি ও ডি গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। ৪০ শতাংশের নিচে নম্বর পেলে শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য হিসেবে গণ্য করার নির্দেশনা রয়েছে।

বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রেডিং পদ্ধতিতে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে ৮০ শতাংশ নম্বর পেলেই সিজিপিএ ৪ পাওয়া যায়, সেখানে অনেক নামকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই গ্রেড পেতে শিক্ষার্থীদের ৯০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর অর্জন করতে হয়। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে ৬০ শতাংশের কম নম্বর পেলে সরাসরি অকৃতকার্য হিসেবে গণ্য করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ২০০৬ সালে অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতি নির্ধারণ করে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু প্রতিষ্ঠান সেই নির্দেশনা থেকে সরে গেছে। নতুন শিক্ষা আইনের মাধ্যমে সবাইকে একই কাঠামোর আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিন্ন গ্রেডিং ব্যবস্থা চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফলাফল তুলনাযোগ্য হবে এবং উচ্চশিক্ষার মান নির্ধারণে স্বচ্ছতা বাড়বে। তবে এটি কার্যকর করতে হলে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় জরুরি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন