- ১৬ মে, ২০২৬
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত জিয়া সরদার মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে আসমা আক্তার–এর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এটি দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। তারা শরীয়তপুর শহরের বিভিন্ন ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। অভিযোগ রয়েছে, গত ১২ মে রাতে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা আক্তার স্বামী জিয়া সরদারকে মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মারা যান।
ঘটনার পর মরদেহ গোপন করতে দেহ টুকরো করা হয় বলে অভিযোগ পুলিশের। পরে কয়েকদিন ধরে মরদেহের অংশ ড্রাম ও ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়। শুক্রবার রাতে বিভিন্ন স্থানে সেগুলো ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি বাসায় মাংসজাতীয় কিছু ফ্রিজে রাখতে গেলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নারীকে আটক করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শরীয়তপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ও পদ্মা নদীর তীর থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন, পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শাহ আলম বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং হত্যার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।