- ১৬ মে, ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাদের গ্রামের বাড়িতে। একে একে পরিবারের সবাই মারা যাওয়ায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
শনিবার (১৬ মে) সকালে উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পরিবারের চার সদস্যকে দাফন করা হয়। এর আগে স্থানীয় উত্তর কনকদিয়া আলিম মাদ্রাসা মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং শত শত মানুষ অংশ নেন। নিহতরা হলেন আবুল কালাম, তার স্ত্রী সালমা এবং তাদের তিন সন্তান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে জীবিকার সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে নারায়ণগঞ্জে পাড়ি জমান আবুল কালাম। সেখানে সবজির ব্যবসা করে পরিবার নিয়ে ফতুল্লার একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় বসবাস করতেন। কয়েকদিন আগে বাসার গ্যাস লাইনে লিকেজ দেখা দিলে বিষয়টি বাড়ির মালিকপক্ষকে জানানো হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। তবে সময়মতো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গত রোববার ভোরে রান্নাঘরে চুলা জ্বালাতে গেলে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পরিবারের পাঁচজনই গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে মারা যান আবুল কালাম। এরপর কয়েকদিনের ব্যবধানে একে একে মারা যায় তার তিন সন্তান ও স্ত্রী। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দগ্ধের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত বেশি।
নিহতের স্বজনরা জানান, দীর্ঘ কষ্ট আর পরিশ্রমে গ্রামের বাড়িতে একটি ঘর নির্মাণ করছিলেন কালাম। পরিকল্পনা ছিল আসন্ন কোরবানির ঈদের পর পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে গ্রামে ফিরে আসবেন। কিন্তু জীবনের নতুন স্বপ্ন পূরণের আগেই পুরো পরিবারকে কফিনবন্দি হয়ে ফিরতে হলো।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একই পরিবারের পাঁচজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এই দুর্ঘটনার জন্য অবহেলাকে দায়ী করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।