Monday, June 1, 2026

সংস্কার বাস্তবায়নে সময় ও নমনীয়তা বাড়াতে আইএমএফ চুক্তিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ


ছবিঃ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে নতুন আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য অধিক সময় ও নমনীয়তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল এবং আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে আইএমএফের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয় যে, বাংলাদেশ নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় ঋণ সহায়তা পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন কর্মসূচি প্রণয়ন করলে বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য বেশি সময় পাওয়া যাবে। বিশেষ করে আর্থিক খাতের সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন এবং রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মতো বিষয়গুলোকে নতুন কাঠামোর আওতায় পুনর্বিন্যাস করার সুযোগ তৈরি হবে।

সূত্রগুলো বলছে, বিদ্যমান কর্মসূচির বেশ কয়েকটি শর্ত বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় নতুন আলোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কর প্রশাসন সংস্কার, ভ্যাট ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর ছাড় কমানো, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনের মতো বিষয়ে আইএমএফের উদ্বেগ রয়েছে।

জানা গেছে, চলমান কর্মসূচির পরিবর্তে নতুন ঋণ সহায়তার জন্য বাংলাদেশ শিগগিরই আইএমএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেবে। নতুন কর্মসূচির আওতায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন কর্মসূচি শুরু হলেও সংস্কার এজেন্ডা থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো নতুন চুক্তিতেও গুরুত্ব পাবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, নতুন কর্মসূচির আলোচনায় সরকার কিছু শর্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ পেলেও আইএমএফ আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে। বিশেষ করে ভর্তুকি নীতি, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং রাজস্ব সংস্কারের মতো বিষয়ে সংস্থাটি দৃঢ় অবস্থান নিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ ২০২২ সালে আইএমএফের কাছে ঋণ সহায়তা চায়। পরে অনুমোদিত কর্মসূচির আওতায় কয়েক ধাপে ঋণ ছাড় করা হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ মোট ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। তবে বাকি অর্থ ছাড় এবং সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর সরকার নতুন কাঠামোয় এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন ঋণ কর্মসূচির শর্ত ও কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে আগামী অর্থবছরের শুরুতে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন