Monday, January 12, 2026

সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট, প্রচারে গতি আনতে মাঠে নামছে সরকার


প্রতীকী ছবিঃ গনভোট (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংস্কারসংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকি থাকলেও সংসদ নির্বাচন ঘিরে আলোচনা থাকলেও গণভোট বিষয়ে জনপর্যায়ে তেমন দৃশ্যমান প্রচার এখনো শুরু হয়নি।

রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিলেও গণভোটকে সামনে রেখে বড় ধরনের প্রচার বা মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে গণভোটের প্রশ্ন, উদ্দেশ্য ও প্রভাব নিয়ে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারের জন্য মসজিদের ইমাম, সরকারি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন সংস্থাকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গত অক্টোবরে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করে। এই সনদে থাকা সংবিধানসংক্রান্ত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে চারটি বিষয়ের আলোকে গণভোটের প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এসব প্রশ্ন সাধারণ মানুষের কাছে জটিল ও দুর্বোধ্য বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক ভোটারেরই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা নেই। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির প্রয়োজন থাকলেও এখনো সেই মাত্রায় প্রচার হয়নি বলে মত বিশ্লেষকদের।

গণভোটের প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ স্বীকার করেছেন, প্রচারে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে সারা দেশে ‘ভোটের গাড়ি’ সুপার ক্যারাভান চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোতে গণভোটের লোগো ব্যবহার, ব্যানার ও ফেস্টুন টানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ইমামদের যুক্ত করে মসজিদকেন্দ্রিক প্রচারের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানেও ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির অনেক নেতা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরব হলেও বিএনপির মধ্যে এ বিষয়ে একক বার্তা স্পষ্ট নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির কিছু নেতা-কর্মী ‘না’ ভোটের পক্ষে মত দিলেও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং দলগতভাবে ‘না’ বলার কোনো কারণ তিনি দেখেন না।

মাঠপর্যায়ের চিত্রেও প্রচারের অসমতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোথাও বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও মাইকিং দেখা গেলেও অনেক বড় শহর ও সড়কে গণভোটের কোনো দৃশ্যমান প্রচার নেই। চট্টগ্রাম, ঢাকা ও ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে গণভোটের কথা শুনলেও কী বিষয়ে ভোট হবে বা কীভাবে ভোট দিতে হবে, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাননি।

এদিকে সরকার একটি পক্ষ নিয়ে প্রচার চালাতে পারে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, গণভোট অধ্যাদেশ ও বিদ্যমান আইনে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের পক্ষে ইতিবাচক প্রচারে কোনো আইনি বাধা নেই। তিনি জানান, এই সরকারের মূল দায়িত্বই হলো বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন সম্পন্ন করা।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গণভোট নিয়ে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা কতটা জোরালো হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে সাধারণ মানুষ।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন