- ১১ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ করেছে। দলীয় নীতিমালা অনুযায়ী, বর্তমান সংসদ সদস্যদের পরিবারের কোনো সদস্যকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মোট ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে যাচ্ছে। এর মধ্যে জামায়াত নিজে ১২টি এবং জোটসঙ্গী এনসিপি ১টি আসন পেতে পারে—যদিও আসন বণ্টন নিয়ে জোটের ভেতরে এখনো আলোচনা চলছে।
জামায়াতের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই সংরক্ষিত নারী আসনের প্রস্তুতি শুরু হয়। মার্চ মাসজুড়ে দলটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই করে। এ ক্ষেত্রে দলটির মহিলা বিভাগ থেকে একটি প্রাথমিক তালিকা নেওয়া হয় এবং কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে মতামত সংগ্রহ করা হয়।
দলের নীতিগত অবস্থান অনুযায়ী, যেসব কেন্দ্রীয় নেতা ইতোমধ্যে সংসদ সদস্য হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের কাউকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, একই পরিবার থেকে একাধিক সংসদ সদস্য না রাখার বিষয়টি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।
তবে দলীয় সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে, যেসব কেন্দ্রীয় নেতা নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগ্য কেউ থাকলে বিবেচনায় আসতে পারেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় দলটির মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মারদিয়া মমতাজ এবং আইনজীবী সাবিকুন্নাহার মুন্নীর নাম আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও চূড়ান্ত তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলীয় পদ, সাংগঠনিক দক্ষতা, সততা, অভিজ্ঞতা এবং আইন প্রণয়ন ও জনস্বার্থে কাজ করার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। শিক্ষক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
জোট রাজনীতির দিক থেকে এনসিপি আরও একটি আসনের দাবি তুলেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া জোটের অন্য কিছু দলও সংরক্ষিত আসনে প্রতিনিধিত্ব চাইলেও তাদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে জোটে যে দলগুলো সংসদে রয়েছে, তাদের প্রাপ্য অনুযায়ী আসন বণ্টন করা হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলীয় আমির ও সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ব।