- ১১ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ঘিরে বিএনপির ভেতরে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা জোরালো হয়ে উঠেছে। দলীয় কার্যালয়ে ইতোমধ্যে কয়েকশ আবেদন জমা পড়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন আহ্বান করা হয়নি।
দলীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই পাঁচ শতাধিক ফরম বিক্রি হয়, যা প্রার্থীদের আগ্রহের মাত্রা স্পষ্ট করে। আগামী রোববার পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।
সূত্রগুলো বলছে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নারীনেত্রী, মহিলা দলের নেত্রী এবং সাবেক ছাত্রদল–ঘনিষ্ঠ তরুণ নেত্রীরা মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। অনেকেই নিজেদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলনে ভূমিকা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা তুলে ধরে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জমা দিচ্ছেন। পাশাপাশি জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে।
আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পেতে যাচ্ছে ৩৬টি আসন। নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ আসনের ভিত্তিতে এই বণ্টন নির্ধারিত হয়েছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের একজন, সাবেক ছাত্রনেত্রী আরিফা সুলতানা বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা মাঠে সক্রিয় ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দল ত্যাগ-তিতিক্ষা ও অবদানের যথাযথ মূল্য দেবে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, প্রার্থী নির্বাচনে অভিজ্ঞতা ও নবীন নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষিত, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এবং জনসম্পৃক্ত নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেত্রীদের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীর রাজনৈতিক অবদান, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সংসদীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার সক্ষমতা গুরুত্ব পাবে।
এদিকে বিভিন্ন পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকজন নেত্রীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেত্রী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, তরুণ সংগঠক, এমনকি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখও।
দলীয় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির ভেতরে প্রতিযোগিতা এবার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। ফলে চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণে নেতৃত্বকে কঠিন সমীকরণের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।