- ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলমান সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সঙ্গে চার দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৮টা থেকে (গ্রিনিচ মান সময় ১৭:০০) এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে সিরিয়ান সেনাবাহিনী।
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়, সাম্প্রতিক দ্রুত সামরিক অভিযানের পর উত্তরের একাধিক এলাকায় সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমাতে এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে সাময়িকভাবে অস্ত্রবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসডিএফকে দামেস্কে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী পদে একজন প্রার্থী মনোনয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে, যা কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগের অংশ বলে জানানো হয়।
এসডিএফও যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, হামলার শিকার না হলে তারা কোনো সামরিক তৎপরতায় যাবে না। পাশাপাশি রাজনৈতিক আলোচনা, সমঝোতা ও সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে নিজেদের প্রস্তুতির কথাও উল্লেখ করে সংগঠনটি।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কিছুক্ষণ পরই নতুন করে উত্তেজনার অভিযোগ উঠেছে। এসডিএফ দাবি করেছে, সরকারপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে হাসাকাহর দক্ষিণে তাল বারুদ এলাকায় হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির মুখপাত্র ফারহাদ শামির ভাষ্য অনুযায়ী, জারকান শহরেও তীব্র গোলাবর্ষণ হয়েছে এবং রাক্কার উত্তরে একটি কারাগারে ড্রোন ও ভারী অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ চালানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সিরিয়ার সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার জন্য এটিকে অন্যতম বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনী আল-হোল শরণার্থী শিবিরের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে, যেখানে আইএসের যোদ্ধাদের পরিবারসহ হাজারো মানুষ বসবাস করে। এসডিএফ ওই শিবির থেকে সরে গেছে বলে জানা গেছে।
যদিও হাসাকাহ শহর ও কুর্দি অধ্যুষিত কামিশলি এখনো এসডিএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সময় এই দুই শহরে প্রবেশের কোনো পরিকল্পনা নেই। সামরিক চাপের মুখে এসডিএফ রাক্কা ও দেইর আজ-জোর অঞ্চল থেকেও সরে যেতে সম্মত হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত ইব্রাহিম ওলাবি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে বলে সরকার আশাবাদী। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক ঘোষণা দিয়েছেন, আইএসবিরোধী লড়াইয়ে এখন থেকে সিরিয়ার সরকারই ওয়াশিংটনের প্রধান অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হবে যে দায়িত্ব আগে এসডিএফ পালন করত।