- ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত নতুন আন্তর্জাতিক কাঠামো ‘বোর্ড অব পিস’–এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কারণ গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইতিমধ্যে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই ‘বোর্ড অব পিস’ গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বোর্ড গাজার পুনর্গঠন, শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।
বিশ্বের একাধিক দেশের নেতাকে এতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর অন্তর্ভুক্তি বোর্ডটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, এই বোর্ডের নেতৃত্ব ও সদস্য নির্বাচন পুরোপুরি ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নেতানিয়াহু এর আগেই বোর্ডটির নির্বাহী কমিটির গঠন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে তুরস্কের উপস্থিতি নিয়ে ইসরায়েল অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং জানায়, এই কাঠামো তাদের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নেতানিয়াহু একা নন আইসিসির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আমন্ত্রণ পাওয়া আরেক নেতা হলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে তাঁর বিরুদ্ধেও আন্তর্জাতিক আদালতের অভিযোগ রয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। এ ছাড়া বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ইসরায়েলকে এককভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।
প্রাথমিকভাবে ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো, ভিয়েতনাম, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান ও আর্জেন্টিনা বোর্ডের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাহী সংস্থা আমন্ত্রণ পেলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
এ ছাড়া নির্বাহী বোর্ডে যুক্ত হয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গাসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি।
মার্কিন প্রশাসন একই সঙ্গে ‘গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ড’ গঠনের কথাও জানিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির কঠিন দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ট্রাম্পের মন্তব্য এই বোর্ড ভবিষ্যতে জাতিসংঘের বিকল্প ভূমিকা নিতে পারে কি না। যদিও তিনি বলেছেন, জাতিসংঘের অস্তিত্ব থাকা উচিত, তবে নতুন বোর্ডটি আরও কার্যকর হতে পারে।
চীন এই ধারণার বিরোধিতা করে জানিয়েছে, তারা জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষেই অবস্থান নেবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘বোর্ড অব পিস’-এর স্থায়ী সদস্য হতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ফি দিতে হবে। আজারবাইজান ইতিমধ্যে এতে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে সুইডেন প্রস্তাবিত কাঠামো নিয়ে আপত্তি তুলে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তথ্যসূত্রঃ আল জাজিরা