- ১১ মার্চ, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে লেবানন জুড়ে ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী বেইরুতসহ দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বুধবার ভোরে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের বালবেক জেলার তামনিন আল-তাহতা এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে বেকা উপত্যকার জ্লায়া এলাকায় আরেকটি হামলায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। রাজধানী বেইরুতের কেন্দ্রস্থলে একটি বহুতল ভবনেও হামলা চালানো হয়েছে, তবে সেখানে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দক্ষিণ লেবাননের বিন্ত জবেইল জেলার সাফ আল-হাওয়া এলাকায় একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েল এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে কয়েকদিন ধরেই পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। তবে হতাহতের সংখ্যায় বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া নতুন দফা হামলায় লেবাননে অন্তত ৫৭০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর দুই সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বেইরুতের আইশা বাকার এলাকায় যে ভবনটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, সেটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। অনেক বাসিন্দা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হামলার সময় ভবনটির একাধিক তলায় আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অনেকেই জানিয়েছেন, এই এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন এমন বহু পরিবার, যারা দক্ষিণ বেইরুতের দাহিয়াহ অঞ্চল থেকে আগে পালিয়ে এসেছিলেন। হঠাৎ কোনো সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানোয় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টায়ার জেলার হানাওয়ে গ্রামে দুটি পৃথক বিমান হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন প্যারামেডিকও রয়েছেন। একই অঞ্চলের আল-হাউশ এলাকায় আরেক হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।
চলমান সংঘাতের কারণে দেশজুড়ে মানবিক সংকটও বাড়ছে। লেবানন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার মানুষ নিজ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও আসতে শুরু করেছে। ফ্রান্স ঘোষণা দিয়েছে যে তারা লেবাননের জন্য ৬০ মেট্রিক টন মানবিক সহায়তা পাঠাবে। এতে স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রী, স্যানিটেশন কিট, ম্যাট্রেস, আলো এবং মোবাইল চিকিৎসা ইউনিট অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে জাতিসংঘ পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেছেন, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং অঞ্চলজুড়ে মানবিক সংকট তীব্র আকার নিতে পারে।