Wednesday, March 11, 2026

তেহরানে তীব্র বোমা হামলা, আতঙ্কে রাত কাটাল লাখো মানুষ


ছবিঃ পশ্চিম তেহরানে আজাদি টাওয়ারের কাছে বিমান হামলার পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যাচ্ছে [ (সংগৃহীত । আল জাজিরা । এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরান গত ১০ দিনের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

রাতভর যুদ্ধবিমান নিচু দিয়ে উড়ে এসে তেহরানের বিভিন্ন স্থানে ভারী বোমা নিক্ষেপ করে। একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ১ কোটিরও বেশি মানুষের এই শহর। বহু বাসিন্দা আতঙ্কে ঘরের ভেতর আশ্রয় নেন। অনেকেই নিরাপদ মনে করে বাথরুম বা ভবনের নিচতলায় আশ্রয় নেন।

পশ্চিম তেহরানের এক বাসিন্দা জানান, টানা প্রায় ১৫ মিনিট ধরে আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যায়। এরপর কয়েক মিনিট বিরতির পর আবার হামলা শুরু হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের জানালা ও মেঝে কেঁপে ওঠে।

শুধু রাজধানী নয়, ইরানের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসফাহান ও কারাজ শহরেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, মঙ্গলবার ইরানের ভেতরে হামলার তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

হামলার সময় অনেক বাসিন্দা আকাশে তীব্র আলোর ঝলক দেখতে পান, যা রাতের অন্ধকারকে মুহূর্তের জন্য দিনের মতো উজ্জ্বল করে তোলে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও কর্তৃপক্ষ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা পুনরুদ্ধারের দাবি করেছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরান সরকার দেশজুড়ে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে নাগরিকদের জন্য তথ্য পাওয়া ও যোগাযোগ রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা NetBlocks জানিয়েছে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে কঠোর জাতীয় পর্যায়ের ইন্টারনেট বন্ধের অন্যতম উদাহরণ।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ইরানের আধাসামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস–এর সদস্যরা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সংঘাতের মধ্যেও তেহরানের কিছু এলাকায় সীমিতভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে। তবে অনেক দোকানপাট অল্প সময়ের জন্য খোলা থাকছে এবং রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে। অনেক পেট্রল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

ইরান সরকার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় বেশ কয়েকটি আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, স্কুল ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ইরানের অর্থনীতি আরও চাপে পড়েছে। দেশটিতে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে, ফলে খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম চাপের মুখে পড়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন