- ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
চলতি বছরের আন্তর্জাতিক পুরস্কার মৌসুমে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে পল টমাস অ্যান্ডারসনের নতুন সিনেমা ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’। ছবিটির প্রধান অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওও আবারও ফিরেছেন আলোচনায় তাঁর অভিনয় এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে খোলামেলা বক্তব্যের কারণে।
সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হলিউডের এই তারকা নিজের অভিনয়জীবনের নানা অধ্যায় তুলে ধরেন। সেখানে তিনি জানান, খুব অল্প বয়সেই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা তৈরি করেছিলেন। ডিক্যাপ্রিও বলেন, কৈশোরেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, ক্ষণস্থায়ী সাফল্যের চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকাই তাঁর লক্ষ্য। তাঁর কাছে অভিনয় ছিল একটি দীর্ঘ পথচলার মতো, যেখানে ধৈর্য ও পরিকল্পনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শৈশবের দিনগুলো স্মরণ করে তিনি বলেন, বিজ্ঞাপন ও টেলিভিশনের ছোট কাজ দিয়েই তাঁর অভিনয়ের শুরু। জনপ্রিয় সিটকম ‘গ্রোয়িং পেইনস’-এ কাজ করার পরই সিনেমার জগতে প্রবেশের সুযোগ আসে। ১৯৯৩ সালে ‘দিস বয়েজ লাইফ’ ছবিতে রবার্ট ডি নিরোর সঙ্গে কাজ করাটা তাঁর ক্যারিয়ারের বড় বাঁক বলে মনে করেন তিনি।
এরপর ‘হোয়াটস ইটিং গিলবার্ট গ্রেপ’ ছবিতে তাঁর অভিনয় নিয়ে শুরুতে সংশয় থাকলেও, চরিত্রটির জন্য নেওয়া প্রস্তুতিই তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরে। ডিক্যাপ্রিও জানান, এই ছবির মাধ্যমেই তিনি প্রথমবারের মতো গভীরভাবে কোনো চরিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
প্রিয় নির্মাতাদের প্রসঙ্গে এসে তিনি বিশেষভাবে পল টমাস অ্যান্ডারসন ও কুয়েন্টিন টারান্টিনোর কথা উল্লেখ করেন। ডিক্যাপ্রিওর মতে, এই দুই পরিচালকই সিনেমার ইতিহাস ও ভাষার প্রতি ভীষণভাবে শ্রদ্ধাশীল। তাঁদের কাজের ধরন অভিনেতাদের চরিত্রের ভেতরে ঢুকে পড়তে সাহায্য করে।
টারান্টিনোর ‘ওয়ানস আপন আ টাইম ইন হলিউড’ ছবির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ডিক্যাপ্রিও বলেন, পুরো হলিউড বুলেভার্ডকে ১৯৬০–এর দশকের আবহে রূপান্তরিত করা হয়েছিল, যা তাঁকে অভিভূত করেছিল।
অন্যদিকে মার্টিন স্করসেজির সঙ্গে ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’ ছবির কাজ ছিল ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা। স্করসেজির পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বিখ্যাত এক সংলাপের শুটিংয়ের আগের দিন অসুস্থ হয়ে পড়লেও, সেই বিরতিই তাঁকে চরিত্রটি আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করেছিল।
এই স্মৃতিচারণা থেকে স্পষ্ট, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর ক্যারিয়ার কেবল সাফল্যের গল্প নয়; বরং সচেতন সিদ্ধান্ত, অধ্যবসায় এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির ফলেই তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন।