Wednesday, February 4, 2026

সিলেটে অস্ত্র–বিস্ফোরক উদ্ধারে উদ্বেগ, নির্বাচন ঘিরে জোরদার নিরাপত্তা


ফাইল ছবিঃ সীমান্ত (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। সিলেট 

সিলেট বিভাগে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা বাড়তে থাকায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী। পরিস্থিতি মূল্যায়নে দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি ও অভিযান।

বৃহস্পতিবার সেনাপ্রধান, বিজিবির সেক্টর কমান্ডার এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৃথক বৈঠকে সম্ভাব্য নির্বাচনি সহিংসতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে বুধবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সিলেট সফর করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনা দেন। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির চৌকি বৃদ্ধি, গোয়েন্দা সোর্স সক্রিয়করণ এবং পুলিশ–র‌্যাবের যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়েছে নগর ও গ্রামাঞ্চলে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে সিলেট বিভাগে উদ্ধার হয়েছে ৩৮টি দেশি ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, যার মধ্যে পিস্তল, রিভলবার ও রাইফেল রয়েছে। এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে ৭৫টি এয়ারগান, ১০৪ রাউন্ড গুলি, দুই হাজারের বেশি কার্তুজ ও প্যালেট, পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ ধারালো অস্ত্র। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১০ কেজির কাছাকাছি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, ৫৪টি ডেটোনেটর, একটি সাউন্ড গ্রেনেড ও কয়েকটি পেট্রোলবোমা।

এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক কোথা থেকে আসছে এবং কারা মজুত করছে—তা খতিয়ে দেখতে সীমান্ত, নদীপথ ও আন্তঃজেলা রুটে বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। শহরের প্রবেশপথে ব্যারিকেড, ডগ স্কোয়াড ও সাঁজোয়া যান নিয়ে টহল এবং মহড়াও চালানো হচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে।

সিলেট বিভাগের ২ হাজার ৬৪১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬২টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ইউনিট। রাতভর বিশেষ অভিযান এবং দিনে দৃশ্যমান টহল অব্যাহত রয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিএনপির সিলেট জেলার শীর্ষ নেতা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার এই নির্বাচন কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলার কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মহানগর নেতারা দ্রুত সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

সিলেটের পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে বডি ওর্ন ক্যামেরা, ড্রোন, ডগ স্কোয়াডসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। র‌্যাব ও বিজিবি জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত ও অভ্যন্তরে অভিযান চলবে।

প্রশাসনের দাবি, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরকের পরিমাণ জনমনে শঙ্কা তৈরি করলেও নির্বাচন সামনে রেখে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যে কোনো ধরনের নাশকতা মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন