- ২৭ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
শেষ বাঁশি বাজার আর কয়েক সেকেন্ডের অপেক্ষা। গ্যালারিজুড়ে তখন উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ, ইরানি ফুটবলারদের চোখে আনন্দের অশ্রু। মনে হচ্ছিল, নাটকীয় এক জয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের দরজা খুলে গেছে ইরানের সামনে। কিন্তু সেই উদ্যাপন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর সিদ্ধান্তে বাতিল হয়ে যায় ইনজুরি সময়ে করা গোলটি, আর মুহূর্তেই আনন্দ বদলে যায় হতাশায়।
সিয়াটলে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘জি’-এর শেষ ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে ইরান। ইনজুরি সময়ে পাওয়া সম্ভাব্য জয়সূচক গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় পূর্ণ তিন পয়েন্ট থেকে বঞ্চিত হয় তারা।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে মিশরের পেনাল্টি বক্সে সৃষ্ট জটলার সুযোগ নিয়ে বল জালে পাঠান ইরানের ডিফেন্ডার শোজা খলিলজাদেহ। প্রথমে রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত দিলেও পরে ভিএআরের সহায়তায় ঘটনাটি পুনর্বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর অফসাইডের কারণে গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।
রিপ্লে বিশ্লেষণে দেখা যায়, বল পাস হওয়ার মুহূর্তে খলিলজাদেহের পায়ের একটি অংশ শেষ দুই ডিফেন্ডারের তুলনায় সামান্য এগিয়ে ছিল। ফুটবলের প্রচলিত অফসাইড আইন অনুযায়ী সেই ক্ষুদ্র ব্যবধানই গোল বাতিলের জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়।
ম্যাচ শেষে ইরানের রামিন রেজাইয়ান হতাশা প্রকাশ করে বলেন, দলটি জয় পাওয়ার মতোই খেলেছে। শেষ মুহূর্তে গোল বাতিল হওয়া এবং এর আগে বল পোস্টে লেগে ফিরে আসার ঘটনাগুলো খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে।
অন্যদিকে ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি টুর্নামেন্ট চলাকালে দীর্ঘ ভ্রমণসূচি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, এক শহর থেকে আরেক শহরে বারবার যাতায়াতের কারণে খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তবে দলের অধিনায়ক স্পষ্ট করে জানান, ইরান দল রাজনৈতিক কোনো আলোচনায় যেতে চায় না; তাদের একমাত্র লক্ষ্য মাঠের ফুটবল।
এই ড্রয়ের ফলে তিন ম্যাচ শেষে ইরানের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে তিন পয়েন্ট। তারা গ্রুপে তৃতীয় স্থান নিয়ে শেষ করেছে। নতুন বিশ্বকাপ ফরম্যাট অনুযায়ী ১২টি গ্রুপের তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটি দল নকআউট পর্বে জায়গা পাবে। বর্তমানে সেই তালিকায় ইরান ষষ্ঠ স্থানে থাকলেও শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে এখন তাদের অপেক্ষা করতে হবে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের দিকে।
শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়া একটি গোলই ইরানের ভাগ্যের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। মাঠে জয়ের স্বাদ না পেলেও শেষ পর্যন্ত নকআউটে ওঠা সম্ভব হবে কি না, সেই উত্তর মিলবে অন্য ম্যাচগুলোর ফল প্রকাশের পর।