- ২৬ জুন, ২০২৬
বিশ্বকাপের মঞ্চে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে ইকুয়েডর। স্মরণীয় এই জয়ের আনন্দ উদ্যাপনে শুক্রবার সারা দেশে এক দিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।
বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শক্তিশালী জার্মানির মুখোমুখি হয় ইকুয়েডর। ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় ইউরোপের দল। দ্বিতীয় মিনিটে লেরয় সানের গোলে জার্মানি লিড নিলেও পাঁচ মিনিটের মধ্যেই নিলসন আঙ্গুলো সমতা ফিরিয়ে ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেন।
বিরতির পর জার্মানি একটি পেনাল্টি পেলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় ফাউলের প্রমাণ মেলায় সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। এরপর ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইকুয়েডর। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখেই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা।
এই জয়ের ফলে তৃতীয় সেরা দলগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিয়ে নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইকুয়েডর।
ঐতিহাসিক এই সাফল্যের পর দেশজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া জাতীয় দলের কৃতিত্বকে সম্মান জানিয়ে সরকারি ও বেসরকারি খাতের জন্য এক দিনের ছুটি ঘোষণা করেন। সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, জার্মানির বিপক্ষে এই জয় জাতীয় গর্ব ও ঐক্যের প্রতীক। তাই পুরো জাতির সঙ্গে এই অর্জন উদ্যাপনের সুযোগ করে দিতেই ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে নিজ ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে উপভোগ করেন প্রেসিডেন্ট নোবোয়া। শেষ বাঁশি বাজার পর দলের জয় উদ্যাপনের ভিডিও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রেসিডেন্ট বলেন, কঠিন সময়, সমালোচনা এবং নানা চাপের মধ্যেও খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার। তাদের এই সাফল্য পুরো জাতিকে আনন্দ ও গর্বের উপলক্ষ এনে দিয়েছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে জার্মানির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করার এই অর্জনকে ইতোমধ্যেই ইকুয়েডরের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।