- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ঢাকার সাভারে সাপের কামড়ে শিখা মনি (৬) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে নামা গেন্ডা বটতলা এলাকার বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হয় শিশুটি। পরে হাসপাতালে না–না ঘুরেও পাওয়া যায়নি জরুরি অ্যান্টিভেনম, শেষ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে শিখা মনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাসার পাশের ঘাসের মধ্যে কয়েকজন শিশুর সঙ্গে খেলছিল শিখা মনি। হঠাৎই তার বাম পায়ে সাপ দংশন করলে সে চিৎকার করে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে পরিবার তাকে নিয়ে ছুটে যায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান অবস্থা গুরুতর, তাকে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হবে। তীব্র যানজটে পথ পাড়ি দিয়ে সোহরাওয়ার্দীতে পৌঁছালেও সেখানকার চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম নেই।
পরিবার হতভম্ব হলেও থেমে থাকেনি। পরামর্শ অনুযায়ী তারা শিশুটিকে নিয়ে মহাখালী হাসপাতালে পৌঁছায়। কিন্তু সেখানেও একই উত্তর সাপের বিষের ভ্যাকসিন নেই। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে ছুটতে অবশেষে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ৮টার দিকে চিকিৎসকরা শিখা মনিকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির নানী শাহনাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার নাতিটা একটা কামড়ের চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেল! এত বড় শহরে একটা ভ্যাকসিনও হলো না? ওর মা প্রতিবন্ধী ওই আমারে তাকায় থাকে, আমি কীভাবে এই খবর দেব?”
মৃত্যুর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং ঘটনাটির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানা অবহিত হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার মূল কেন্দ্রে অ্যান্টিভেনমের ঘাটতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি এ ধরনের জরুরি ওষুধ সব হাসপাতালে সহজে পাওয়া না গেলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।