- ০৫ মার্চ, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজবকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার যে খবর ছড়ানো হয়েছে, তা সত্য নয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২ জানুয়ারিই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) থেকে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ডাউনলোড কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘হিসাব সহকারী’ পদে একটি নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই সেটিকে ভুলভাবে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দ্রুত একটি স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি দেয়। সেখানে জানানো হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা আগামী শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ জেলায় নির্ধারিত কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হবে এবং সকাল ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আবেদনকালে দেওয়া মোবাইল নম্বরে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র ডাউনলোড সংক্রান্ত এসএমএস পাঠানো হবে। ০১৫৫২-১৪৬০৫৬ নম্বর থেকে পাঠানো ওই বার্তায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা থাকবে। পরীক্ষার্থীরা ২৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে admit.dpe.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড অথবা এসএসসি পরীক্ষার রোল নম্বর, বোর্ড ও পাশের সন ব্যবহার করে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন।
পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে প্রার্থীদের রঙিন প্রিন্ট করা প্রবেশপত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি (এনআইডি বা স্মার্টকার্ড) সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। ওএমআর শিট পূরণসহ পরীক্ষাসংক্রান্ত সব নির্দেশনা প্রবেশপত্রেই উল্লেখ থাকবে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, বই, নোট, ক্যালকুলেটর, হাতঘড়ি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্যাগ বা কোনো ধরনের যোগাযোগমূলক যন্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ‘হিসাব সহকারী’ পদের যে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, তা ছিল ২৬ ডিসেম্বর বিকেলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর পরীক্ষার শুরু হওয়ার আগেই সেটি বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়লেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থগিত পরীক্ষার নতুন তারিখ পরে জানানো হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনুরোধ জানিয়েছে, গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য জানার জন্য।