- ০১ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে তাকে ‘মিথ্যাবাদী রাখাল বালক’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে সালমানের বক্তব্যের কিছু অংশ মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এসব মন্তব্য করেন আবিদুল ইসলাম খান। ভিডিওতে তিনি সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করে সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আবিদুলের অভিযোগ, এর আগে একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে সালমান একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে দায়ী করার চেষ্টা করেছিলেন। পরে পুলিশের তদন্তে তাঁর সেই বক্তব্য সঠিক ছিল না বলে দাবি করেন আবিদুল।
এ ছাড়া ধর্ষণের একটি স্পর্শকাতর মামলা নিয়েও সালমান মুক্তাদির মনগড়া বক্তব্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, পরবর্তী ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে সালমানের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার অমিল ধরা পড়ে।
সর্বশেষ রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনা নিয়েও সমালোচনা করেন আবিদুল। তাঁর দাবি, ওই ঘটনাকে সালমান বিএনপির চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করেছেন, যদিও বিএনপির নেতাকর্মীদের এতে কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ইসিবি চত্বরের ঘটনার বিষয়ে আবিদুল তাঁর বক্তব্যে দুই পক্ষের বিরোধের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বিরোধের অভিযোগ করেন এবং ওই বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ওই হামলার ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউগিনি প্রপার্টিজের সঙ্গে পাশের জমির মালিকপক্ষের বিরোধ থেকেই হামলার সূত্রপাত হতে পারে। তদন্তে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওকে হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য হিসেবে পাওয়া যায়নি বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
ভিডিওতে আবিদুল ইসলাম খান আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় মাঠে থাকার কারণে সালমান মুক্তাদির যে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিলেন, সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি সেই আস্থা হারিয়েছেন বলে তাঁর মনে হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সালমানকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও মামলা চলমান রয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ এ ঘটনা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিলেও হামলার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হওয়ার কথা।