- ২০ এপ্রিল, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশে অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়নের পথে ঋণখেলাপিদের প্রভাব বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, এ সমস্যা কোনো ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি গভীর কাঠামোগত সংকট।
রোববার সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর নবম বার্ষিক সম্মেলনের শেষ দিনে আয়োজিত এক অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। “সংস্কার নিয়ে মোহ: বাংলাদেশের গল্প” শীর্ষক আলোচনায় তিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন।
রেহমান সোবহান বলেন, সংস্কার শুধু আইন প্রণয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যার মধ্যে প্রশাসনিক কাঠামো গঠন, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ফলাফল মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে আইন পাস করা সহজ হলেও বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সংস্কার কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় অঙ্গীকার ও নেতৃত্বের অভাব দেখা যায়। অতীতে সফল সংস্কারগুলো সাধারণত জনগণের শক্তিশালী সমর্থনের ওপর নির্ভর করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গণভিত্তিক সমর্থন দুর্বল উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ইশতেহার জনগণের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারছে না। এমনকি অনেক দলীয় নেতাকর্মীও নিজেদের নীতিমালা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব দিয়ে আসছে। তবে সেগুলোর অনেকই টেকসই ফল দিতে পারেনি, মূলত বাস্তবায়ন দুর্বলতার কারণে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সঠিকভাবে অর্থ ব্যয় না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সংস্কারের সফলতা যাচাই করতে হলে মাঠপর্যায়ে এর বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন করা জরুরি।
রেহমান সোবহান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সংস্কারের প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে কোনো সংস্কারই স্থায়ীভাবে সফল হবে না।