- ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
চলতি দুই হাজার পঁচিশ–ছাব্বিশ অর্থবছরের প্রথমার্ধে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের চিত্রে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে, তবে প্রবাসী আয় ও আর্থিক হিসাবে ইতিবাচক প্রবাহের কারণে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক–এর ডিসেম্বরভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে আমদানি ব্যয় পাঁচ শতাংশ বেড়ে তিন হাজার তিনশো আটষট্টি কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে রপ্তানি আয় প্রায় এক শতাংশ কমে দুই হাজার দুইশো বারো কোটি ডলারে নেমে আসে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার একশো ছাপ্পান্ন কোটি ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল নয়শো ছিয়াত্তর কোটি ডলার।
তবে রেমিট্যান্সে আঠারো শতাংশ প্রবৃদ্ধির কারণে চলতি হিসাবের ঘাটতি কমে এসেছে। ছয় মাসে চলতি হিসাবের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে মাত্র চৌত্রিশ কোটি ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল বাহান্ন কোটি ডলার।
অন্যদিকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ও বৈদেশিক ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধির ফলে আর্থিক হিসাবে দুইশো পাঁচ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। এর প্রভাবে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে প্রায় একশো চুরানব্বই কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত অর্জিত হয়েছে।
এদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। সম্প্রতি রিজার্ভ বেড়ে চৌত্রিশ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা আটত্রিশ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সর্বশেষ দুই হাজার বাইশ সালের নভেম্বর মাসে রিজার্ভ চৌত্রিশ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ছিল।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও আর্থিক হিসাবের শক্তিশালী অবস্থান বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তবে আমদানি–রপ্তানির ভারসাম্য উন্নত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।