- ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
প্রযুক্তি খাতের শেয়ারদরের জোরালো উত্থান এবং জাপানের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাবে এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজার সূচকগুলো রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে ডলারের অবস্থান আরও মজবুত হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের শেয়ারবাজার প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধির কারণে নতুন উচ্চতা স্পর্শ করে। এর প্রভাবে এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের বিস্তৃত সূচক MSCI নতুন রেকর্ড গড়েছে। সূচকটি দশমিক সাত শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় সপ্তাহেই সূচকটির মুনাফা প্রায় তেরো শতাংশে পৌঁছেছে।
জাপানে নির্বাচনে জয় পাওয়া প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি অর্থনৈতিক শিথিলতার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় দেশটির বাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে। সপ্তাহজুড়ে জাপানি মুদ্রা ইয়েন প্রায় দুই দশমিক সাত শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের অর্থনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল অবস্থানের প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ফিউচার সূচকও শক্তিশালী সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছে। করপোরেট আয় প্রতিবেদন প্রকাশের মৌসুম চলায় বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফলের দিকে নজর রাখছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্যও বাজারে প্রভাব ফেলছে।
সাম্প্রতিক শ্রমবাজারের তথ্যে দেখা গেছে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান প্রত্যাশার তুলনায় বেশি ছিল এবং বেকারত্বের হার কিছুটা কমেছে। এতে দেশটির অর্থনীতি স্থিতিশীলতার দিকে ফিরছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে সুদহার অপরিবর্তিত রাখতে পারে Federal Reserve। সাধারণত ফেডের সুদহার–সংক্রান্ত প্রত্যাশা দুই বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের আয়ে প্রতিফলিত হয়। সর্বশেষ সেশনে এই আয় পাঁচ দশমিক আট বেসিস পয়েন্ট বেড়ে তিন দশমিক পাঁচ শূন্য পাঁচ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
ডলার শক্তিশালী থাকলেও ইয়েনের পুনরুত্থান বাজারে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, নির্বাচনে স্পষ্ট বিজয় জাপান সরকারকে অর্থনৈতিকভাবে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ নীতি গ্রহণে উৎসাহিত করবে, যা মুদ্রাবাজারে আস্থা জুগিয়েছে।