Sunday, January 11, 2026

রেডিটে ভাইরাল ‘হুইসেলব্লোয়ার’ পোস্ট ভুয়া প্রমাণিত, এআই–ভিত্তিক প্রতারণা নিয়ে নতুন উদ্বেগ


ছবিঃ (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

খাবার সরবরাহকারী একটি অ্যাপের ভেতরের তথ্য ফাঁসের দাবি করে রেডিটে ভাইরাল হওয়া এক ব্যবহারকারীকে শেষ পর্যন্ত ভুয়া হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী ও হুইসেলব্লোয়ার দাবি করে ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন, কোম্পানিটি চালক ও গ্রাহকদের ঠকাতে নানা কৌশল ও আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করছে।

ভাইরাল পোস্টে ওই ব্যবহারকারী লেখেন, “আপনারা সব সময় মনে করেন অ্যালগরিদম আপনাদের বিরুদ্ধে সাজানো, কিন্তু বাস্তবতা এর চেয়েও বেশি হতাশাজনক।” তিনি আরও দাবি করেন, মদ্যপ অবস্থায় লাইব্রেরির পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে এসব ‘ভেতরের কথা’ লিখছেন এবং কোম্পানি নির্বিঘ্নে চালকদের বেতন ও টিপস আত্মসাৎ করছে।

অভিযোগগুলো অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছিল, কারণ এর আগে ডোরড্যাশের বিরুদ্ধে চালকদের টিপস আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়েছিল। কিন্তু এই ঘটনায় তদন্তে বেরিয়ে আসে রেডিট ব্যবহারকারীটি সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প ফেঁদেছিলেন।

তারপরও পোস্টটি রেডিটের প্রথম পাতায় জায়গা করে নেয়, পায় ৮৭ হাজারের বেশি আপভোট। এক্স (সাবেক টুইটার)–এ ছড়িয়ে পড়লে সেখানে আরও দুই লাখের বেশি লাইক এবং কয়েক কোটি ভিউ হয়।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাংবাদিক কেসি নিউটন জানান, তিনি ওই ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে ব্যক্তি সিগনালে কথা বলেন এবং নিজেকে প্রমাণ করতে উবারইটসের একটি কর্মী ব্যাজের ছবি ও ১৮ পৃষ্ঠার একটি তথাকথিত ‘অভ্যন্তরীণ নথি’ পাঠান। সেখানে দাবি করা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে চালকদের ‘হতাশা স্কোর’ নির্ধারণ করে তাদের মজুরি ঠিক করা হয়। তবে যাচাই করতে গিয়ে নিউটনের সন্দেহ হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিষয়টি একটি এআই–নির্ভর প্রতারণা বলে ধরা পড়ে।

নিউটন বলেন, আগে এমন বিশদ নথি বানাতে বিপুল সময় ও শ্রম লাগত, তাই সহজে বিশ্বাসযোগ্য মনে হতো। কিন্তু এখন এআই দিয়ে মুহূর্তেই এমন কনটেন্ট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা সাংবাদিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ঘটনায় গুগলের জেমিনি এআই টুল ব্যবহার করে ছবিটি শনাক্ত করা হয়। সেখানে গুগলের ‘SynthID’ ওয়াটারমার্ক পাওয়া যায়, যা প্রমাণ করে ছবিটি কৃত্রিমভাবে তৈরি।

এআই–নির্মিত কনটেন্ট শনাক্তে কাজ করা প্রতিষ্ঠান প্যাংগ্রাম ল্যাবসের প্রতিষ্ঠাতা ম্যাক্স স্পেরো বলেন, ইন্টারনেটে ‘এআই স্লপ’ ভয়াবহভাবে বেড়েছে। শুধু ব্যক্তি নয়, অনেক প্রতিষ্ঠানও এখন রেডিটে ভাইরাল হওয়ার জন্য এআই দিয়ে বানানো পোস্ট ব্যবহার করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লেখা শনাক্তে কিছু টুল থাকলেও ছবি ও ভিডিও যাচাই এখনো কঠিন। ফলে ভুয়া কনটেন্ট ধরা পড়ার আগেই তা লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

এই ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো একই সপ্তাহান্তে রেডিটে এমন একাধিক এআই–ভিত্তিক ভুয়া গল্প ভাইরাল হয়েছে। এতে করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সত্য-মিথ্যা যাচাই করা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন