- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী প্ল্যাটফর্ম ম্যানাসকে ২ বিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার পরই নিয়ন্ত্রক জটিলতায় পড়েছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। তবে এই জটিলতা যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বরং চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে আসছে বলে জানা গেছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে ম্যানাসের সঙ্গে মেটার এই চুক্তি দেশটির প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করছে কি না। বিশেষ করে ম্যানাস যখন বেইজিং থেকে তাদের মূল টিম ও কার্যক্রম সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করে, তখন প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা রপ্তানি লাইসেন্স নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়।
চলতি বছরের শুরুতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান বেঞ্চমার্ক ম্যানাসে বিনিয়োগ করার পর থেকেই বিতর্কের সূচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজনীতিক তখন চীনা এআই কোম্পানিতে মার্কিন বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগও নতুন বিনিয়োগ নীতিমালার আলোকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ম্যানাস ধাপে ধাপে চীন থেকে নিজেদের কার্যক্রম সরিয়ে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যায়।
তবে এখন পরিস্থিতি উল্টো। চীনা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মেটার সঙ্গে এই চুক্তি সফল হলে আরও অনেক চীনা এআই স্টার্টআপ দেশ ছাড়তে উৎসাহিত হবে। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল–এর অধ্যাপক ও ড্রাগন ক্যাপিটালের অংশীদার উইনস্টন মা মন্তব্য করেছেন, এই অধিগ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলে তা চীনের তরুণ এআই উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
চীনে প্রযুক্তি রপ্তানি সংক্রান্ত আইন প্রয়োগের নজির আগেও রয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে টিকটক নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টার সময়ও বেইজিং একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করেছিল। চীনের এক অধ্যাপক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটে সতর্ক করে বলেছেন, অনুমোদন ছাড়া সংবেদনশীল প্রযুক্তি বিদেশে স্থানান্তর করলে ম্যানাসের প্রতিষ্ঠাতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়ও আসতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্লেষক এই চুক্তিকে ওয়াশিংটনের বিনিয়োগ বিধিনিষেধের সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, এতে প্রমাণ হয় যে চীনা এআই মেধা ধীরে ধীরে মার্কিন প্রযুক্তি পরিবেশের দিকে ঝুঁকছে।
এ অবস্থায় মেটা তাদের বিভিন্ন পণ্যে ম্যানাসের এআই এজেন্ট প্রযুক্তি যুক্ত করতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, দুই বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি যতটা সহজ মনে হয়েছিল, বাস্তবে তা তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠছে।