Tuesday, April 14, 2026

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভায় সাংস্কৃতিক সংকট নিয়ে আলোচনা


ছবিঃ ‘বাংলাদেশের কালচার: আত্মপরিচয়ের অন্বেষণ’ শীর্ষক সভায় আলোচকেরা। (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ’ বা সংস্কৃতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রবণতা রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদের চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে মত দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট চিন্তক ও বুদ্ধিজীবীরা। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদ মানুষের ভোটাধিকার সীমিত করে, কিন্তু সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ মানুষের পরিচয়, বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের জীবনধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের কালচার: আত্মপরিচয়ের অন্বেষণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মতামত উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক ও গবেষক ইমরান মাহফুজ। তিনি বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিক মুক্তির আন্দোলনের এক শতক পেরিয়ে গেলেও দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে আসছে। ধর্মীয় ব্যাখ্যা বা সামাজিক বিধিনিষেধের আড়ালে যে অসহিষ্ণুতা তৈরি হচ্ছে, তা সমাজের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভাষণ বিশ্লেষণে ‘সংস্কৃতি’ শব্দটির অনুপস্থিতি তিনি গভীর সংকটের ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, দীর্ঘদিনের বিভাজনমূলক রাজনীতি এখন ভিন্নমতকে শত্রু হিসেবে দেখার প্রবণতায় রূপ নিয়েছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে রাষ্ট্র সংস্কারের পথও কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনীতিতে অর্থ ও প্রভাবের আধিপত্য বেড়ে যাওয়ায় জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্বের জায়গা সংকুচিত হয়েছে।

বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট সেলিম খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, বহিরাগত মতবাদের প্রভাব ও সামাজিক পরিবর্তনের কারণে দেশীয় সংস্কৃতি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। ধর্মীয় অনুশীলন অনেক ক্ষেত্রে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়জি বলেন, বাংলাদেশ একটি জাতিরাষ্ট্র হলেও আত্মপরিচয়ের সংকটে ভুগছে। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার বিষয়টি সংস্কৃতির ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে তিনি মনে করেন।

পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অ্যাকটিভিস্ট সৌমিত্র দস্তিদার বলেন, দুই বাংলাতেই সংকীর্ণ ইস্যু কেন্দ্রিক উত্তেজনা বাড়ছে। পারস্পরিক মানবিক সম্পর্ক ও সাধারণ মানুষের সংস্কৃতিই এই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হতে পারে।

আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকসের শিক্ষক শামস আরেফিন, অধ্যাপক মিজানুর রহমান, গবেষক নাহিদ হাসান এবং সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।

বক্তারা সমন্বিত ও দেশজ চিন্তার ওপর ভিত্তি করে সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের আহ্বান জানান এবং বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় সমাজের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন