Tuesday, April 14, 2026

পয়লা বৈশাখকে ধারণ করে জামায়াত: শোভাযাত্রায় সাইফুল আলম খান


ছবিঃ রাজধানীতে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রার আগে বক্তৃতা (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

পয়লা বৈশাখ বাংলাদেশের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন) বলেছেন, এ উৎসবকে দলটি ধারণ করে এবং মানুষের নিজস্ব বিশ্বাসের প্রতিও সম্মান জানায়।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীতে বৈশাখী শোভাযাত্রার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘নববর্ষের নব স্বপ্নে নব উদ্যমে জাগো’ প্রতিপাদ্যে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়।

সাইফুল আলম খান বলেন, মানুষের মঙ্গল বা অমঙ্গলের নিয়ন্তা একমাত্র আল্লাহ। তবে দেশের কোনো সম্প্রদায় যদি তাদের নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী অন্য কিছুতে কল্যাণ খোঁজে, সে বিষয়ে জামায়াত আপত্তি করে না এবং সেই বিশ্বাসে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, বাংলা সনের সূচনা হয়েছিল মুঘল সম্রাট আকবরের সময়, মূলত রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর বাঙালি জাতি পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন করে আসছে।

ইসলাম ও সংস্কৃতির সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, তৌহিদ ও রিসালাতের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়—এমন সব সংস্কৃতিকে ইসলাম গ্রহণ করে। স্থানীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করাই ইসলামের একটি বৈশিষ্ট্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আরও দুই সংসদ সদস্য—ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নূরুল ইসলাম বুলবুল। এছাড়া দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি সাইফুল্লাহ মানসুরসহ সংগঠনের সদস্য এবং দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সকাল সাড়ে আটটার পর জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে হাইকোর্ট মোড় ঘুরে রমনা পার্কের সামনে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই বর্ণিল পাঞ্জাবি ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত ছিলেন।

শোভাযাত্রায় গ্রামীণ জীবনের নানা উপকরণ ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। দেশীয় ফল, মাছ, পালকি ও মসজিদের প্রতীকী উপস্থাপনার পাশাপাশি অনেককে জাল ও চাঁই দিয়ে মাছ ধরার অভিনয় করতে দেখা যায়। শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো; তারা জাতীয় পতাকা হাতে রঙিন পোশাকে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।

শোভাযাত্রা শেষে রমনা পার্কের বকুলতলায় বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বাংলা লোকসংগীত, দেশাত্মবোধক গান, জারি-সারি, গম্ভীরা, আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে নববর্ষ উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠানটি বিকেল পর্যন্ত চলবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন