- ১৩ মার্চ, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। খুলনা
লাল শাড়ি পরে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে বেরিয়েছিলেন নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু। হাতে ছিল মেহেদির রঙ, চোখে ছিল নতুন জীবনের স্বপ্ন। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হয় গভীর শোকে। বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মিতুসহ ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন।
জানা গেছে, খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের বাসিন্দা মার্জিয়া আক্তার মিতুর বিয়ে হয়েছিল আগের দিন রাতে। বিয়ের পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে নববধূ মিতু তার ছোট বোন লামিয়া (১১) ও দাদি রাশিদা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তারা বরযাত্রীদের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসে করে যাচ্ছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বোলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে মাইক্রোবাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই বহু যাত্রী হতাহত হন। এতে নববধূ মিতু, তার বোন, দাদি, বরসহ মোট ১৪ জন নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার ভোরে মিতুসহ তিনজনের মরদেহ তাদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উত্তর নাকশা গ্রামে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এদিকে একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে নাকশা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাড়ির চারপাশে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
নিহত মিতুর বাবা ছালাম মোড়ল শোকে ভেঙে পড়েছেন। বারবার কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “আমার দুই মেয়ে আর আমার মা—তারা কোথায়? আমি একবার তাদের দেখতে চাই।” তার এই হৃদয়বিদারক আহাজারি উপস্থিত সবার চোখে পানি এনে দেয়।
স্থানীয়রা জানান, একটি আনন্দের বিয়ে বাড়ি মুহূর্তেই শোকের বাড়িতে পরিণত হয়েছে। পুরো গ্রাম এখন গভীর শোকে স্তব্ধ।