Friday, August 7, 2026

‘রাজনৈতিক মতভেদ সংসদেই মীমাংসা হওয়া উচিতঃ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী


ছবিঃ বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা বিরোধের সমাধান হওয়া উচিত সংসদীয় আলোচনা এবং সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তিনি মনে করেন, রাস্তায় চাপ সৃষ্টি বা ‘মব’ সংস্কৃতির বিস্তার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে এবং সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার জন্য তা কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র কেবল একটি শাসনব্যবস্থার নাম নয়; এটি এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তার মতে, নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়া উচিত এবং সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। কেবল গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বললেই হবে না, বরং রাজনৈতিক আচরণেও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকতে হবে। অন্যথায় শক্তিশালী ও কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।

দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাস তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে দেশে স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতান্ত্রিক চর্চার ভিত্তি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও সেই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেন। তবে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নানা কারণে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দলটি গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে। তার অভিযোগ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত দেড় দশকে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের ব্যর্থ ঘোষণা করা বা ক্ষমতা ছাড়ার দাবি তোলা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ধৈর্য ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষাংশে সহনশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। মতের অমিল থাকলেও প্রত্যেকের মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, রাজনৈতিক অঙ্গনে সহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধের চর্চা জোরদার না হলে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

সেমিনারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন