Sunday, June 14, 2026

‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ নিষিদ্ধকরণ নিয়ে ব্রিটিশ আদালতের রায় আজ


ছবিঃ সরকারের ফিলিস্তিন অ্যাকশন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে লন্ডনে 'এভরিওয়ান ডে' বিক্ষোভ থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করছে, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ (সংগৃহীত । আল জাজিরা /ড্যান কিটউড/গেটি ইমেজেস)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

যুক্তরাজ্যের বিতর্কিত অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত বৈধ ছিল কি না—এ বিষয়ে সোমবার রায় দিতে যাচ্ছে ব্রিটেনের কোর্ট অব আপিল। এই রায় দেশটির রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করছে।

গ্রুপটিকে গত বছরের জুলাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে যুক্তরাজ্য সরকার। এর পর থেকেই সংগঠনটির বৈধতা ও আন্দোলনের ধরন নিয়ে দেশটিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

চলতি মাসের শুরুতে লন্ডনের একটি আদালত চার কর্মীকে সম্পত্তি ক্ষতিসাধনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেয়, যেখানে তাদের কার্যক্রমকে “সন্ত্রাস-সম্পর্কিত” হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে এর আগে ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাকে “অবৈধ ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ” বলে রায় দিয়েছিল।

সরকার পরবর্তীতে সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, যার চূড়ান্ত শুনানি এখন আপিল আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ নিজেদের একটি সরাসরি আন্দোলনকারী সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয়, যারা দাবি করে তারা ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে থাকে। সংগঠনটি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি কোম্পানির স্থাপনায় ভাঙচুর ও অনুপ্রবেশমূলক প্রতিবাদ চালিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে, যার ফলে কোটি কোটি পাউন্ডের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে—২০২১ সালে একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাদে দীর্ঘ সময় অবস্থান, ২০২২ সালে স্কটল্যান্ডের একটি অস্ত্র কারখানায় অনুপ্রবেশ এবং ২০২৪ সালে ব্রিটেনে একটি সামরিক সরঞ্জাম স্থাপনায় ক্ষতিসাধন।

এছাড়া ২০২৫ সালে একটি সামরিক ঘাঁটিতে অনুপ্রবেশ করে সামরিক বিমানে লাল রঙ ছিটানোর ঘটনাও আলোচনায় আসে।

সংগঠনটি নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে এর সমর্থনে যুক্ত থাকার অভিযোগে বিপুল সংখ্যক গ্রেপ্তারও হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এসব কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড মূলত প্রতিবাদ ও সম্পত্তি ক্ষতিসাধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞায় পড়ে না।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই পদক্ষেপকে “অসামঞ্জস্যপূর্ণ” হিসেবে অভিহিত করেছে। পাশাপাশি একাধিক আইনবিদও সতর্ক করে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ ও রাজনৈতিক প্রতিবাদকে সন্ত্রাসবাদের আওতায় আনা ভবিষ্যতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সোমবারের আপিল আদালতের রায় শুধু একটি সংগঠনের ভবিষ্যৎ নয়, বরং যুক্তরাজ্যে প্রতিবাদ, নিরাপত্তা আইন ও সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা নিয়ে নতুন নজির স্থাপন করতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন