Sunday, June 14, 2026

ইংলিশ চ্যানেলে রুশ শ্যাডো ফ্লিট তেলবাহী জাহাজ আটক করল ব্রিটিশ বাহিনী


ছবিঃ গাম্বিয়ার পতাকাবাহী কাইরোস তেল ট্যাঙ্কারটি রাশিয়ার গোপন নৌবহরের অংশ বলে মনে করা হয় (সংগৃহীত । আল জাজিরা /হ্রিস্টো রুসেভ/গেটি ইমেজেস)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত তেলবাহী একটি ট্যাংকার আটক করেছে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী। ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজটি আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

তিনি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সফল এই অভিযান রাশিয়ার জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা এবং এটি ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধকে অর্থায়নকারীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা যে, তাদের কর্মকাণ্ড আড়াল করতে দেওয়া হবে না।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ‘স্মাইরটোস’ নামে একটি ট্যাংকারে অভিযান চালানো হয়। ক্যামেরুনের পতাকা বহনকারী জাহাজটিতে রয়্যাল মেরিন কমান্ডো এবং ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এতে হেলিকপ্টার, নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং মাইনহান্টারসহ বিভিন্ন সামরিক সম্পদ ব্যবহার করা হয়।

প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলা অভিযানের পর জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় এবং পরে সেটিকে যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ উপকূলের একটি নোঙরস্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে পরিবেশ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড্যান জার্ভিস বলেন, এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সাহসের দাবি রাখে। তিনি অভিযানে অংশ নেওয়া সেনা সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়া তার যুদ্ধ অর্থায়নের জন্য যে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহার করছে, তা বন্ধ করতে এই ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার তেল ও গ্যাস খাতে আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এর আগে গত কয়েক মাসে ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশও সন্দেহভাজন রুশ তেলবাহী জাহাজ আটক ও নজরদারির আওতায় এনেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদার হওয়ার পর এই ধরনের নৌপথ ব্যবহার করে তেল পরিবহনের প্রবণতা বাড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৫০০টিরও বেশি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আয়ে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।

অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোর এই ধরনের জাহাজ আটকের পদক্ষেপকে ‘দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জলপথে এই ধরনের উত্তেজনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন