- ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় আবারও জলদস্যুদের তৎপরতায় ২০ জন জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন। ‘ডন বাহিনী’ পরিচয়ে একটি সশস্ত্র দস্যু দল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে বনসংলগ্ন একাধিক নদী থেকে এসব জেলেকে ধরে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদা নদী, চুনকুড়ি ও মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মাছ ধরার সময় অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করা হয়। এ নিয়ে চলতি মাসেই দ্বিতীয়বারের মতো জেলেদের অপহরণের ঘটনা ঘটল। এর আগে ১৯ জানুয়ারি একই বাহিনী মুক্তিপণের দাবিতে পাঁচজন জেলেকে অপহরণ করেছিল।
বন্দিদশা থেকে ফিরে আসা কয়েকজন জেলে জানান, অপহরণকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভেটো সফিকুল ও শাহাজান। তারা আগে র্যাবের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার ঘোষণা দিলেও গত তিন মাস ধরে আবারও দস্যু কার্যক্রমে জড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় অপহৃত ২০ জন জেলের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন সাদেক আক্কাছ, আবু তাহের, রাজেত আলী, নজরুল গাইন, শুকুর আলী, আবুল কালাম, আশিকুল, হাফিজুর, আসাদুল, আমজাদ আলী, ইউসুফ আলী ও মিলন হোসেন। সবাই শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। বাকি আটজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
ভুক্তভোগী জেলেরা জানান, তারা চলতি মাসের ১৭ তারিখে কদমতলা স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, দোবেঁকী কোস্টগার্ড অফিস সংলগ্ন এলাকা ও আশপাশের খাল থেকে আট সদস্যের দস্যু দলটি ২০টি নৌকা থামিয়ে প্রত্যেক নৌকা থেকে একজন করে জেলেকে তুলে নেয়। পরে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
অপহৃত জেলেদের স্বজনরা জানান, যোগাযোগ করলে দস্যুরা প্রতিজনের জন্য ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। একই সঙ্গে পুলিশ বা কোস্টগার্ডকে জানালে জেলেদের হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ কারণে পরিবারগুলো আতঙ্কে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়ে আপসের মাধ্যমে মুক্তিপণ কমানোর চেষ্টা করছে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, তার স্টেশন থেকে পাশ নিয়ে বনে যাওয়া কয়েকজন জেলে অপহৃত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, শনিবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন এবং বন বিভাগ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।